ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালত (Massachusetts Supreme Judicial Court) একটি চাঞ্চল্যকর রায়ে ঘোষণা করেছে যে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আইনত দায়মুক্ত নয় — কারণ তারা এমন একটি ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল যেখানে তাদের মরগ’ এ থাকা দানকৃত মৃতদেহ থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি ও বেচাকেনা করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের সেই আগের রায় — যেখানে মামলাগুলি বাতিল করা হয়েছিল — উল্টে দেওয়া হলো।
7 Oct 2025 | Pic: Collected
এই মামলাগুলো ১২টি আলাদা মামলা হিসেবে দায়ের করা হয়েছিল, ৪৭ জন পরিজন অভিযোগ করেন যে, তাদের geliefতদের দেহ দান করার পর হঠাৎ দেহ থেকে মস্তিষ্ক, মস্তক, ত্বক ও অন্যান্য অঙ্গ — যা গবেষণা ও শিক্ষা কাজে ব্যবহারের আগে সংরক্ষণ করা হয়েছিল — তা অবৈধভাবে চুরি ও বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযুক্ত মরগ’ ম্যানেজার সেড্রিক লজ (Cedric Lodge) দীর্ঘ שנים ধরে এই কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণভাবে, দান করা মৃতদেহগুলোর ব্যবহারে এক নির্দিষ্ট আইন — Uniform Anatomical Gift Act — প্রযোজ্য, যা দানকৃত দেহকে মর্যাদাপূর্ণভাবে রাখার বাধ্যবাধকতা আর দোষ না থাকলে দানকৃত প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্তি দিতে পারে। তবে বিচারক স্কট কাফ্কার (Scott Kafker) এই রায় তুলে ধরেছেন যে, হার্ভার্ড “দায়িত্বের প্রতি খাটো” আচরণ করেছে এবং দানকৃত দেহগুলোর যথোপযুক্ত সুরক্ষা ও ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
নিচের আদালতে (Suffolk Superior Court) রায় ছিল যে Harvard প্রতিষ্ঠানটি “good faith” অর্থাৎ সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং আইন অনুযায়ী দোষী প্রমাণ করা যায়নি, তাই তাদের ক্ষেত্রে দায়বোধ আরোপ করা যাবে না।Massachusetts Supreme Judicial Court কিন্তু সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, বলেছে যে মামলাগুলোর বিবরণ যথেষ্টভাবে যুক্তিসম্পন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছে যে Harvard তাদের দায়বোধ এড়িয়ে গেছে।
এই মামলাটি আবার নিচে ফেরত যাবে — অর্থাৎ এখন Harvard বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তbodaeth নেতৃত্বদেরকে আদালতে প্রমাণ দিতে হবে যে তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে। অভিযুক্ত Cedric Lodge ইতিমধ্যেই মধ্য অক্টোবর ২০২৫-এ নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন যে তিনি দানকৃত দেহ থেকে অঙ্গ ও অংশ চুরি করেছেন এবং সেগুলো বহির্বিভাগে পরিবহন ও বিক্রয় করেছেন। তিনি অন্যান্য অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্ত চলছে।
এই রায়ের ফলে Harvard Medical School-এর Anatomical Gift Program-এর পরিচালক Mark Cicchetti-র বিরুদ্ধে মামলাও পুনরায় চালানো যাবে। Harvard বিশ্ববিদ্যালয় এখনো কোনো মন্তব্য দেয়নি, তবে তারা পূর্বে বলেছিল যে Lodge-এর কাজ “নৈতিক ও মর্যাদাবিরোধী” এবং প্রতিষ্ঠান তিনি এগুলো “অবৈধ ও অনুমোদনহীনভাবে করেছে।”
এই পরিকল্পনায় রয়েছে, পরবর্তী সময়ে আদালতে মূল চূড়ান্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য উপস্থাপন হবে এবং Harvard-এর নীরবতা ও সুপারভিশন ব্যবস্থার দায়িত্ব, গোচন ও মনিটরিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। একই সঙ্গে, দানকৃত দেহদান প্রথা ও গবেষণার নৈতিকতা, দাতা পরিবারের বিশ্বাস ও মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়বোধ — সবই আলোচনাসাপেক্ষ হবে।



