যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে, United States National Guard (ন্যাশনাল গার্ড)–র দুই সদস্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুলিতে লক্ষ্য করা হয়েছে — এবং এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে, হোয়াইট হাউজ থেকে মাত্র দুই ব্লক দূরে, Farragut West Metro Station–এর কাছে (১৭তম ও I স্ট্রিট NW) এই শুটিংয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতায় হামলাকারী দ্রুত ধরা পড়লেও — প্রথম দিকে চিকিৎসারত দুই জনের মধ্যে একজন, ২০ বছর বয়সী নারী সদস্য Sarah Beckstrom, গুরুতর জখম অবস্থায় ভর্তির পর মারা যান; আরেকজন, ২৪ বছর বয়সী পুরুষ সদস্য Andrew Wolfe, এখনো সংকটাপন্ন।

28 Nov 2025 | Pic: Collected
সরাসরি হামলার পরে পুলিশের মোতায়েন ও দমকল-সহ উদ্ধার-কর্মী কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আতঙ্কে ঘন এলাকা সার্বক্ষণিকভাবে ঘিরে ফেলা হয়। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে — যে ২৯ বছর বয়সী আফগান নাগরিক Rahmanullah Lakanwal বলে একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়া জানায় — ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। তাকে একই সময় গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে; তবে এতটাও স্পষ্ট নয়, গুলিবর্ষণের সময় ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের প্রতিক্রিয়া ছিল কি না।
এই হামলা সম্পর্কে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তারা এটি “লক্ষ্যভিত্তিক” এবং “আক্রমণাত্মক” (ambush-style) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলার কারণ এখনও তদন্তাধীন।আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে যদি কেউ বেঁচে যান এবং সাক্ষ্য দেন, তাহলে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য, স্থল ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে।
এই ঘটনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বও শোক প্রকাশ করেছে। Donald Trump, যিনি হামলার পর সৈনিক এবং তাদের পরিবারকে সমব্যথি জানিয়েছেন, বলেছেন — “সারা অত্যন্ত সম্মানিত ও অসাধারণ একজন। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। সারার বাবা-মা এখন শোকে আছে।” শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন থাকা বাহিনীর নিরাপত্তা-প্রেক্ষাপট নিয়ে জাতীয়ভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজধানীর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউজ ও আশপাশ এলাকা, বিশেষ করে মেট্রো স্টেশন ও জনবহুল এলাকায় অতিরিক্ত আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর মোতায়েন এবং নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে, এমন শঙ্কাজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অভিবাসী অনুমোদন প্রক্রিয়া, পারমিট ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া, এবং অভ্যন্তরীণ মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা নীতিমালা নিয়ে নতুন ভাবনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজরও এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রত্যক্ষ অস্ত্রাসক্তি-সংক্রান্ত নীতিমার প্রতিক্রিয়ার দিকে।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী — হামলার সময় গুলিবর্ষণ হয়, হামলার শিকার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা অবিরাম টহলে ছিলেন, স্নায়ুযুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ-সূত্র খুঁজছে প্রশাসন। ঘটনাস্থল থেকে ধরা পড়া সন্দেহভাজন একজন; তার আগমন, পারিপার্শ্বিকতা, আগের জীবনী — এসবই এখন মনিটরিংয়ের মধ্যে। তদন্তের ফলাফল বিশ্ববাসী দেখছে।
এই ঘটনায় শুধু একজন প্রাণ হারায়নি, বরং পুরো জাতির জন্য একটি সতর্কবার্তা — যে, নিরাপত্তা-নীয়ম, অভিবাসন-পরিচালনা, অভ্যন্তরীণ সিকিউরিটি নীতি এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনোভাবেই অবহেলা করা যায় না। যারা প্রতিরক্ষার দায়িত্বে — তাঁদের সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।




