ভারতের দিল্লির ২৭ বছর বয়সী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী কৌশিক রাজ সম্প্রতি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০০,০০০ ডলারের (প্রায় ৮৯ লক্ষ রুপির) স্কলারশিপ পেয়েছিলেন, যেখানে তিনি ডেটা জার্নালিজমে মাস্টার্স করতে যেতে চেয়েছিলেন। সব আবেদন প্রক্রিয়া — ভর্তি, শর্তাদি মেনে নেওয়া, এবং ভিসা অনুরোধ— শেষ পর্যায়ে হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা অফিস তার আবেদন বাতিল করে দিল।
8 Oct 2025 | Pic: Collected
নিউ ডেলি আম্বাসি থেকে পাঠানো রিফিউজাল চিঠিতে বলা হয়, কৌশিক “তাঁর দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবে এমন প্রোফাইল” প্রমাণ করতে পারেননি — অর্থাৎ তিনি যথেষ্ট “বাঁধা” (ties) বা সম্পর্ক ভারতের প্রতি স্থির রাখার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “You have not demonstrated that you have the ties that will compel you to return to your home country after your travel to the United States.”
কৌশিক দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা যাচাই নীতিতে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই (social media vetting) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, যদিও তিনি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কম লেখেন, তার কর্মী হিসেবে প্রকাশিত রিপোর্ট ও কাজের লিঙ্ক তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করেছেন, যা হয়তো তার আবেদন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলেছে।
২০১৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্ক্রিনিং নীতিতে ধাপে ধাপে পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের জুনে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা দিয়েছিল যে F, M ও J ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের তাঁদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রোফাইল “public” করতে হবে যাতে কনসুলার অফিসাররা তা পরীক্ষা করতে পারেন। এই নয়া নিয়মের কারণে অনেক আবেদনকারীর অতীত অনলাইন কার্যকলাপ, মন্তব্য ও শেয়ার করা বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
কৌশিকের মতো আরও কয়েকজন ভারতীয় ছাত্রও একই ধরণের ভিসা প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছেন। তারা বলছেন, তারা ভিসার শুরুর ধাপগুলি পার করেছেন, ইন্টারভিউ দিয়েছেন, ডকুমেন্ট শৃঙ্খলাও মেনে চলেছেন — কিন্তু শেষ ধাপে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাইয়ের ফলে আবেদন বাতিল হয়েছে।
বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় এক ধরনের “নিউজ সামাজিক মাধ্যম নজরদারি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নজরে রাখা” নয় তর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠন বলছেন, এই পন্থাগুলি আকাশপাতাল শাসন ও মতনির্বাচন শাসনহীনতা প্রবণতা বাড়াতে পারে।
কৌশিক বলেছেন, তিনি যুক্তরাজ্যে আবেদন করবেন এবং সেই দিকে নজর দিচ্ছেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে তার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তার ভর্তি প্রস্তাব আগামী বছরে স্থগিত করেছে।
এই ঘটনা শুধু কৌশিকের জন্য নয় — ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক হাজারো ছাত্রের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেসব ছাত্র ইতিমধ্যে স্কলারশিপ পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রত্যাখ্যাতিভাব সিদ্ধান্ত শিক্ষার সাম্য ও ন্যায্যতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
এছাড়া, এই সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে ভিসা অফিস বলেছে, তারা “যেকোনো প্রাপ্য তথ্য ও প্রমাণ বিবেচনায় নেয়” এবং সিদ্ধান্তগুলি আইনসঙ্গত ও ন্যায্যভাবে নেওয়া হয়েছে। নতুন আবেদন করতে হলে কৌশিককে নতুন ডকুমেন্ট, ইন্টারভিউ ও পরিস্থিতির পরিবর্তন ব্যাখ্যা করতে হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, আজকাল উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক সুযোগে শুধু অর্থ ও মেধা নয়, সামাজিক মাধ্যম দৃষ্টিভঙ্গি ও অনলাইন উপস্থিতি — সবকিছুর প্রভাব আছে।



