নিউ ইয়র্ক সিটিতে ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ইতিহাস রচনা করেছেন জোহরান মামদানি। সেই সময়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন বলেছে যে প্রায় ২৬ জন বিলিয়নিয়ার মিলিয়ে ছিল প্রায় ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করার পরিকল্পনায়, যাতে মামদানির নির্বাচনী যাত্রা থামিয়ে দেওয়া যায়। কিন্ত সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে—কারণ মামদানির ‘গ্রাসরুটস’ ভিত্তিক আন্দোলন ও সাধারণ ভোটারদের বিশাল সমর্থন তাকে এগিয়ে নিয়েছে।
9 Nov 2025 | Pic: Collected
মামদানির নির্বাচনী প্রচারণার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—ছোট দানের উৎস থেকে শুরু করে পাবলিক ম্যাচিং ফান্ডিং পর্যন্ত। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব বিশাল অর্থ ও সুপার পিএসি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই শক্তিকে তিনি জনভিত্তিক এবং অ্যাক্টিভিস্ট-বান্ধব পদ্ধতিতে পরাস্ত করেছেন।
তথ্য বলছে, মামদানি প্রার্থিত হওয়ার আগে তুলনায় কম খরচেই তিনি প্রচারণা চালিয়েছেন তবে দানের সংখ্যা ছিল ব্যাপক এবং তিনি পাবলিক ম্যাচিং ফান্ডিং সিস্টেমের সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়েছেন। অন্যদিকে, গোরূপ মুদ্রণ করা হয়েছে যে—বিলিয়নিয়ারদের প্রচারণা ও দান ছিল মূলত মামদানির বিরুদ্ধে, অর্থাৎ তাঁর জয় রোধ করবার উদ্দেশ্যে।
একে রাজনীতির মনস্তাত্বিক ও অর্থনৈতিক এক বড় সমর বলা যেতে পারে—যেখানে ধনীর অর্থ বিপুল হলেও গণমানুষের সমর্থন ও সামাজিক আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা নিয়েছে। মামদানির বক্তব্য ছিল, “আমরা শুধু বড় দানধারীদের রাজনীতি করছি না; আমরা কাজ করি সাধারণ মানুষের জন্য।”
এই ফলাফল শুধু নিউ ইয়র্ক সিটির জন্য নয়—এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম নগর নির্বাচনের পর নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে রাজনীতিতে বড় দানের শক্তি vs জনবহুল আন্দোলনের লড়াই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী নির্বাচনে এই মডেল অন্য প্রার্থীদের জন্যও অনুসরণীয় হয়ে উঠতে পারে।
সারাংশে, মামদানির এই জয় দেখায় যে ২৬ জন বিলিয়নিয়ার ও ২২ মিলিয়ন ডলারের প্রচারণা সত্ত্বেও—শেষপর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোট, সংগঠন ও বিশ্বাস বড় জয় এনে দিয়েছে।



