অগস্ট ১ তারিখে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ শুল্ক আরোপের ডেডলাইন মিটাতে মেক্সিকোকে আরও ৯০ দিন সময় দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার। অর্থাৎ মেক্সিকো, যেটি আমেরিকার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার, তার ওপর ৩০% আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সাময়িক মুক্তি পেয়েছে এবং বর্তমান ২৫% শুল্ক বহাল রাখতে হচ্ছে, যাতে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে ।

1 August 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প এ বিষয়টি Truth Social-এ একটি পোস্টে জানান: তিনি মেক্সিকোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং সঙ্গত পরিচিতি ও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, “আমরা পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী বাণিজ্য চুক্তি করতে পারি।”
এ সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই সুবিধা শুধুমাত্র USMCA (United States–Mexico–Canada Agreement)-এর আওতাধীন পণ্যের ক্ষেত্রে—তবে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও কপার শিল্পে ৫০% শুল্ক, এবং গাড়ি ও fentanyl-সংক্রান্ত শুল্ক ২৫% নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, মেক্সিকো ব্যবসায়িক বাধা (non-tariff barriers) প্রত্যহিত করবে, যদিও বিস্তারিত উল্লেখ করেননি।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মেক্সিকো “Narco-Trafficking Playground” হিসেবে পরিচিত থাকায় আমদানি শুল্ক না বাড়ালে দেশটি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে ফোনে আলোচনা শেষে পরিস্থিতি ধরা দেওয়া যায়নি বলে হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলো (“very successful call”)।
উল্লেখযোগ্য—মেক্সিকো ফেডারেল অর্থনীতি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটির প্রায় ৮৫% আমদানিকৃত পণ্য USMCA-র শর্ত পূরণ করে, ফলে নতুন শুল্ক থেকে সেগুলো পরিত্রাণ পাবে এই মুকুবের সময়ের জন্য। অর্থমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড বলেন, “মেক্সিকো সম্পূর্ণ বিনা ছাড় ছাড়াই এই সুবিধা অর্জন করেছে” ।
তুজি বিশ্বের অন্যান্য অংশ—যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইনস—এর সঙ্গে মুকাবিলায় বাণিজ্য সমঝোতা হয়েছে, যেখানে অনেক শুল্ক ১০‑২০% পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই তুলনায় মেক্সিকো বিষয়ে দেরি হওয়া আলোচনার আদলে দেখা যেতে পারে । তবে কানাডা, যেটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র স্বীকৃতির কারণে ট্রাম্পের সমালোচনায় এসেছে, তার ওপর ৩৫% শুল্ক ধার্য করা হয়েছে এবং সময়সীমা বাড়ানো হয়নি
এই ৯০ দিনের সময়সীমা মূলত একটি রাজনীতির মেজাজ—তাকে কেউ ‘TACO Trade’, অর্থাৎ “Trump Always Chickens Out” (চ্যালেঞ্জ বা হুমকি দিয়ে পরে ডাবলব্যাক) নীতি বলেও ইতিমধ্যে কল্যাণ করে তুলেছে, যেখানে হুমকি দিলে শব্দ যায় কিন্তু বাস্তবায়নে সময় নষ্ট হয় অন্য দেশকে শ্বাসরুদ্ধ করতে ।
এই সংলাপ মেক্সিকোই নয়, বাজারে বিনিয়োগকারীর মনোভাব পরিবর্তন করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে—শুল্ক-হুমকি ও সময়সীমা বাড়ানো নীতি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বাড়িয়ে দেয়, আমেরিকান ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সামলাতে হয়, কারণ আমদানির খরচ শেষে খরচা হয় দোকানদারের মাধ্যমে সেসব পণ্যে ।



