আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ২০২৬-কে সামনে রেখে বাংলাদেশের পেস বোলিং তারকা মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ খেলা পরিবেশকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

31 Dec 2025 | Pic: Collected
কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) সম্প্রতি নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রায়। একদিকে এটি মোস্তাফিজের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও আইপিএলে তার দক্ষতার উপর ঊর্ধ্বতন মূল্যমানের প্রমাণ হলেও, মাঠের বাইরের পরিস্থিতি তুলে ধরছে অন্য এক গুরুতর উদ্বেগও।
ভারতের মধ্যবর্তী শহরগুলোর বিভিন্ন /ধর্মীয় সংগঠন ও পুরোহিতরা মোস্তাফিজের নাম থাকলে খেলা পণ্ড করতে বা স্টেডিয়ামে অনুপ্রবেশ করে ম্যাচ ব্যাহত করার মতো হুমকি রেখেছেন, এমন সতর্কতা সামনে এসেছে। রিন্মুক্তেশ্বর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহাবীর নাথসহ কিছু দাবীদার বলেছেন, যদি মোস্তাফিজ মাঠে খেলেন, তারা ম্যাচ বন্ধ করতে পারে এবং এমনকি পিচ ভাঙচুরের মতো চরম আচরণও করতে পারে।
এ ধরনের হুমকি খেলা পরিচালনা, দর্শক নিরাপত্তা এবং আইপিএলের সার্বিক পরিবেশের জন্য বড় উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন রাজ্যের স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যক দর্শক থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও বিসিসিআই-কে নিতে হয়, তাই এমন অবস্থায় সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকে বশে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
বিসিসিআই ও কিনারা নাইট রাইডার্সের কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে জরুরি আলোচনা শুরু করেছে। যদিও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বা বিস্তৃত পদক্ষেপ ঘোষণা হয়নি, বিসিসিআই কর্ত্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্টেডিয়াম নিরাপত্তা টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আইপিএলে মোস্তাফিজের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতোমধ্যেও অনিশ্চয়তা রয়েছে, কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এর সঙ্গে আইপিএলের শিডিউল, বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়পত্র (NOC) ইস্যু এবং জাতীয় দলের সিরিজের কারণে তার অংশগ্রহণ সীমিত বা স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আইপিএল নিলামে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ব্যক্তিগত ও সরকারি ছাড়পত্রের বিষয়গুলো এখনও সমাধান হয়নি বলে কেকেআর ও বিসিসিআই-র কাছে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় সামাজিক মাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। কিছু অংশে মোস্তাফিজকে আইপিএলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা উঠেছে, যেখানে অনেকে বলেন বিদেশি খেলোয়াড়কে বড় দামে নেওয়া উচিত হলেও ধর্মীয় ও সামাজিক উত্তেজনা মাথায় রাখা উচিত ছিল, বিশেষ করে কিছু ধর্মীয় সংগঠনের বক্তব্যের কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
কিছু সমালোচক মনে করেন এই সম্পর্কিত সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাগুলোকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়, বিশেষত যখন ক্রিকেটের মতো খেলায় জাতিগত ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা থাকে।
যদিও বর্তমান পরিস্থিতি গ্রামীণ স্তরে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, মোস্তাফিজ নিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন অভিজ্ঞ ও প্রমাণিত পেস বোলার, ১৩০-এর মতো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা তাকে আইপিএলের মতো বড় পূঁজি-সম্পন্ন টুর্নামেন্টে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে নিরাপত্তা ও সামাজিক উত্তেজনা বিষয়টি তার অংশগ্রহণকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা থেকে দূরে রেখেছে।
মোস্তাফিজের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ খেলা-সংক্রান্ত একটি সাধারণ ইস্যু নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, আইনের শৃঙ্খলা ও খেলাধুলা পরিবেশের সংগঠনকে সচেতন রাখার প্রয়োজনীয়তার একটি তুলনামূলক বড় বিষয়। এটি ভারতীয় ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে আগামী আইপিএল মৌসুমে সতর্কভাবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।




