ভারতের তরুণ অধিনায়ক শুভমান গিল আবারও ইতিহাস ছুঁয়েছেন ব্যাট হাতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে তিনি তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। শনিবার (১১ অক্টোবর) প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১২৯ রানে থেকে বিরাট কোহলির এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড স্পর্শ করেন গিল। এ বছরের এটি ছিল ভারতের অধিনায়ক হিসেবে তার পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। এর মাধ্যমে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে কোহলির গড়া রেকর্ডে নাম লেখালেন ভারতের নতুন টেস্ট অধিনায়ক।

12 Oct 2025 | Pic: Collected
মাত্র ২৫ বছর বয়সী শুভমান গিল চলতি বছরই ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পান। গত জুনে ইংল্যান্ড সফর দিয়েই অধিনায়ক হিসেবে তার যাত্রা শুরু। ঐ সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছিলেন সবাইকে—প্রথম দুই টেস্টে তিনটি সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসেন গিল। এরপর চতুর্থ টেস্টে আরও একটি সেঞ্চুরি যোগ করেন নিজের ঝুলিতে। ইংল্যান্ড সিরিজে মোট চারটি সেঞ্চুরি করার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই শতক পূর্ণ করলেন পঞ্চমটি।
গিলের এই ধারাবাহিক ব্যাটিং ভারতের টেস্ট দলে নতুন উদ্দীপনা এনেছে। সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলির পর এমন ধারাবাহিকতা দেখা গেছে খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যে। কোহলি এক সময় তার টেস্ট অধিনায়কত্বের সময় বছরে পাঁচটি সেঞ্চুরি করে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন। এবার সেই রেকর্ডের পাশে নিজের নাম তুললেন গিল। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না তিনি। এখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস এবং আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ বাকি। এর মধ্যে মাত্র একবার তিন অঙ্ক ছুঁলেই গিল এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক সেঞ্চুরির একক রেকর্ড গড়বেন।
গিলের ব্যাটিং ফর্ম বর্তমানে অসাধারণ পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক ১০ ইনিংসে তিনি করেছেন গড়ে ৭২.৪০ রান, যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়গুলোর একটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকনিক ও ধৈর্যের দুর্দান্ত মিশ্রণ গিলকে করেছে আলাদা। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে যেখানে অনেক ভারতীয় ব্যাটার টিকে থাকতে হিমশিম খেয়েছেন, সেখানে গিল সহজেই মানিয়ে নিয়েছেন বাউন্স ও সুইংয়ের সঙ্গে। কোচ রাহুল দ্রাবিড় জানিয়েছেন, “গিল এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে তার প্রতিটি ইনিংস ভারতীয় ক্রিকেটকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।”
এই পারফরম্যান্সে শুভমান গিল এখন শুধু দলের নেতৃত্ব নয়, বরং নতুন প্রজন্মের ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ হয়ে উঠছেন। তার শান্ত মেজাজ, পজিটিভ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এবং দৃঢ় টেকনিক ভারতের ভবিষ্যতের জন্য আশার প্রতীক। কোহলির পর ভারত এমন এক ব্যাটসম্যানকে পেয়েছে, যে নেতৃত্ব ও ব্যাট দুই ভূমিকাতেই সমান পারদর্শী। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে গিল ভবিষ্যতে ভারতের হয়ে আরও অনেক রেকর্ড ভাঙতে পারেন।
ভারতীয় ক্রিকেটের ভক্তদের কাছে এখন প্রশ্ন—কোহলির রেকর্ড শুধু ছুঁয়ে থামবেন, নাকি ছাড়িয়ে যাবেন শুভমান গিল? দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দিকে এখন তাকিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।




