ফিফা (FIFA)–র সভাপতি জিওবানি ইফান্টিনো সম্প্রতি একটি ফিফা কাউন্সিল বৈঠকে মন্তব্য করেছেন যে ফুটবল কোনো দেশাত্মিক বা রাজনৈতিক সংঘর্ষ একা সমাধান করতে পারে না, এবং গণহত্যার মতো অভিযোগগুলোকে “ভূরাজনীতি (geopolitics)” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “ফুটবল সমস্যা সমাধানে সক্ষম নয়, তবে একতা ও শান্তি প্রচার করতে পারে” । বিশেষ করে গাজার সংঘর্ষ ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ফিফার ওপর চাপ পাঠানো হয়েছিল — কেন ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বহিষ্কার করা হবে না — সেই প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
3 Oct 2025 | Pic: Collected
ইফান্টিনো বলেন, ফিফা–র কাজ হলো ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করা, এবং শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রনীতি বা যুদ্ধ–সংঘাত সরাসরি হস্তক্ষেপ করার কাজ তাদের নয়। তিনি আরও যুক্ত করেন, “বর্তমানে ফুটবল যে বার্তা পৌঁছাতে পারে, তা হলো শান্তি ও ঐক্য”
এই মন্তব্যের সঙ্গে, ফিফা কোনও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেই চালাকি করেছেন — ইসরায়েলকে বহিষ্কারের বিষয়ে কোনও সরাসরি নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা তারা ঘোষণা করেনি। ফিফা প্রত্যেক সিদ্ধান্তকে কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন ও ঐক্যমতির ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেছে, অর্থাৎ একটি একক সিদ্ধান্ত শুধু ফিফা সভাপতি বা কাউন্সিল নয়, সমস্ত ফুটবল বাহিনীকে একমত হওয়া দরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন যে এই রূপক কথা ও সিদ্ধান্তহীনতা ফিফার নীতি ও নেতৃত্বের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, গণহত্যা বা যুদ্ধের মত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটলে ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নীতিগুলো রাজনৈতিক ও মানবিক দায়িত্বও নিতে হবে — শুধু নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়া যথেষ্ট নয়।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে — ফিফার এই মন্তব্য ও মনোভাব নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে, বিশেষ করে যারা চেয়েছিলেন ফুটবল শরিক হয়ে বিশ্বের ন্যায্য দৃষ্টিতে ভূমিকা নিক।



