লা লিগায় শিরোপা পুনরুদ্ধারে যাত্রা ছিল পরীক্ষার, আর সেই পরীক্ষায় অনন্য এক উত্তরণের গল্প লিখলেন ১৭ বছরের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক গোল ও একটি অ্যাসিস্টে জ্বলে উঠে এস্পানিওলকে ২-০ গোলে হারাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এ জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা।

Source: bdnews24 | 16 May 2025 | Pic: Collected
বৃহস্পতিবার রাতে এস্পানিওলের আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কাতালান ডার্বির ম্যাচটি ঘিরে ছিল বিশেষ গুরুত্ব। শুধু প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের চ্যালেঞ্জ নয়, সঙ্গে ছিল এক মৌসুম পর লা লিগার মুকুট পুনরুদ্ধারের সুযোগ। হান্সি ফ্লিকের দল সে কাজটাই নিখুঁতভাবে করেছে, পয়েন্ট টেবিলে রেয়াল মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে অর্জন করেছে ২৮তম লা লিগা ট্রফি।
বম্যাচের প্রথমার্ধে ইয়ামাল ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে, বার্সেলোনাও ছন্দে ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে চিত্র বদলে যায় ৫৩তম মিনিটে। ডান প্রান্তে দানি ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর দূরপাল্লার বাঁ পায়ের শটে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান ইয়ামাল। শুধু গোলেই থেমে থাকেননি—৭ মিনিট যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ফের্মিন লোপেসকে অ্যাসিস্ট দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
অবশ্য ম্যাচের শুরুতে কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে খেলা স্থগিত রাখতে হয় রেফারিকে। স্টেডিয়ামের বাইরে গাড়িচাপায় আহত হন অন্তত ১৩ জন, যদিও কারও অবস্থা গুরুতর ছিল না বলে পরে ঘোষণা দেওয়া হয়। খেলা পুনরায় শুরু হলে এস্পানিওল একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
৮০ মিনিটে এস্পানিওলের ডিফেন্ডার লিয়ান্দ্রো কাবরেরা ইয়ামালের পেটে হাত দিয়ে আঘাত করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়িয়ে দেন রেফারি।
হান্সি ফ্লিক বার্সেলোনার কোচ হয়ে এসেছেন এই মৌসুমেই। তার প্রথম মৌসুমেই বার্সা ঘরোয়া ‘ডাবল’ নিশ্চিত করেছে—লা লিগা ও কোপা দেল রে। জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপে রেয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে আরও একটি ট্রফি জিতেছিল দলটি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও বার্সেলোনার মৌসুম ছিল মোটের ওপর সাফল্যমণ্ডিত।
৩৬ ম্যাচে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৮৫ পয়েন্ট (২৭ জয়, ৪ ড্র), রেয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৮। এই জয়ে লা লিগায় এস্পানিওলের বিপক্ষে বার্সেলোনা টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত রইল।
এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইয়ামাল করেছেন ১৭ গোল, দিয়েছেন ২৫টি অ্যাসিস্ট—একজন ১৭ বছরের ফুটবলারের জন্য যা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর।
লামিনে ইয়ামালের পায়ের জাদু শুধু বার্সেলোনাকে শিরোপা এনে দেয়নি, বিশ্ব ফুটবলেও নতুন প্রতিভার আগমন বার্তা দিয়েছে। কোচ ফ্লিকের প্রথম মৌসুমেই এই ডাবল জয় কাতালানদের ঘরোয়া আধিপত্যে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত। আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বার্সা-রিয়াল দ্বৈরথের গল্পে যোগ হলো নতুন অধ্যায়।




