একবারের লাতিন ফুটবলের কিংবদন্তি, নেইমার, যিনি ২০০৯ সালের পর থেকে গৌরবোজ্জ্বল পাল্লায় ব্রাজিল জাতীয় দলে ছিলেন, সেই নেইমারের ২০২৬ সালের FIFA World Cup–এ জায়গা পাবেন কি না সেই প্রশ্ন এখন ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত। সম্প্রতি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন ব্রাজিল দলের কোচ Carlo Ancelotti। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দলে আনার ক্ষেত্রে “নেইমার = অটো চয়েস” আর নেই; তার পরিবর্তে যারা এখন শতভাগ ফিট, ফর্মে আছে তারা শীর্ষ প্রাধান্য পাবে।
7 Dec 2025 | Pic: Collected
অ্যানচেলত্তি জানান, যদিও নেইমারের প্রতি তার কোনো ব্যক্তিগত “দেনা” নেই, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পাবে শুধু সেই খেলোয়াড় যিনি মে মাসে চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময় বাদ পড়বেন না। তিনি বলেন, “দলে আমাদের খুব প্রতিযোগিতা থাকবে, শুধু নাম বা পুরনো সুনাম নয় ফর্ম আর ফিটনেসই হবে সবচেয়ে বড় মানদণ্ড।”
নেইমারের চ্যালেঞ্জ হ’ল দীর্ঘ সময় ধরেই ইনজুরি ও পুনর্বাসনের সঙ্গে যুদ্ধ। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি। প্রথম থেকেই কোচিং স্টাফ দেখিয়েছেন যে, যদি তার হাঁটু বা জীনাস ফিটনেস প্রশ্নতীত থাকে স্কোয়াডে ডাক পাওয়া যাবে না। ২০২৫ সালের শেষের দিকে সান্তোস ক্লাবে খেলেছেন, গোলও করেছেন; কিন্তু সেই সাফল্য নিয়েও আনচেলত্তির নীতি বদলায়নি।
গত কয়েক মাসে, বিশেষ করে সান্তোসের হয়ে হ্যাট্রিকসহ ভালো পারফরম্যান্স দেখানো সত্ত্বেও, নেইমারের বিষয়ে কোচ দৃঢ় “কোনো সবর নয়, সবকিছুতে শতভাগ ফিটনেস দেখতে হবে”।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে জিমেল দল গঠন ও আগাম প্রস্তুতির সমস্যা। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল একটি তরুণ, দ্রুতগতির, উচ্চ স্পষ্টতা আবশ্যক এমন দল গঠন করতে চায়। অ্যানচেলত্তি মনে করেন, এমন এক দল গড়তে হলে শুধু ব্যক্তিত্ব নয় সামগ্রিক সাদৃশ্য, দ্রুততম রেসপন্স ও শারীরিক ফিটনেস জরুরি।
তবে নেইমারের প্রতি পুরনো শ্রদ্ধা ও গুরুত্ব এখনও আছে দেশের কিংবদন্তি হিসেবে তার নাম এখনও উপেক্ষা করা যাবে না। এমনকি কয়েক শীর্ষ স্তরের ফুটবলজ্ঞ ও সাবেক খেলোয়াড়রা বলছেন, যদি নেইমার সুস্থ থাকে, তাহলে তার মতো “গেম চেঞ্জার” প্লেয়ারের অভাব হয়।
এই মুহূর্তে, নেইমারের ভবিষ্যৎ ২০২৬ বিশ্বকাপে একদমই নিশ্চিত নয় এবং সেটি পুরোপুরি তার নিজস্ব পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ওপর নির্ভর করবে। বিশ্বকাপের আগের কয়েক মাস হবে চূড়ান্ত সময়; ঐ সময়েই বোঝা যাবে ব্রাজিল দলে তাকে ডাক পাওয়া যায় কি না।
ফুটবলপ্রেমীরা এখন দুই ভাগে একদল চাইছেন, এখনও তার চমক দেখার আশায়; অন্যদল বলছেন, নতুন প্রজন্মের উদ্যম ও ফিটনেস সিলেকশন হওয়া দরকার। চূড়ান্ত দল ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত এই বিতর্ক চলে যাবে।
ইতিমধ্যে সান্তোস ক্লাবের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স, আবার কোচের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গা সব মিলিয়ে নেইমারের বিশ্বকাপের স্বপ্ন এখন রয়েছে ঝুঁকিতে। তবে ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব যদি ফিটনেস, ফর্ম, এবং সময়ই তার পক্ষে আসে, তাহলে হয়তো ২০২৬–এ আমরা আবার দেখব, নেইমারের জার্সি পড়ে ব্রাজিল কায়দায় ছন্দে ফুটবল।



