২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-র কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নতুনভাবে চালু করা ‘ফিফা পিস প্রাইজ’* নামের একটি শান্তি পুরস্কার সর্বপ্রথম তুলে দেয়। পুরস্কারটি বিশ্ব শান্তির জন্য অসাধারণ কাজ ও মানুষকে একত্রিত করার ভূমিকা-জনিত সম্মান হিসেবে প্রবর্তিত হওয়া সত্ত্বেও, পরে জানা যায় এটি শুধু ফুটবল-ক্রীড়া-ভিত্তিক বা স্বতন্ত্র মর্যাদার একটি পুরস্কার নয়—এটির পেছনে ছিল একটি বড় রাজনৈতিক প্রভাব ও শর্ত-সমূহ।

21 Dec 2025 | Pic: Collected
বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে পুরস্কার সাধারণত ক্রীড়া-সংগঠনের নিরপেক্ষ নীতির ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়ে থাকে, কিন্তু ফিফার এই নতুন পিস প্রাইজ-এর ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজের ভূমিকা সম্ভাব্যভাবে কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় যে হোয়াইট হাউজ ফিফার কাছে একাধিক শর্ত জুড়ে দেয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল যে পুরস্কারটির ট্রফির আকৃতি যেন ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির সমান হয়—এটি গত বছর কাঠামোগত ও নান্দনিক ভাবে যে পুরস্কারটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা প্রতীয়মান করতে।
ফিফার বিশ্বকাপ ট্রফি সাধারণত ১৪.৫ ইঞ্চি উচ্চ এবং ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি হয়, যা ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলোর মধ্যে একটি। তবে নতুন পিস প্রাইজ-এর শর্ত অনুযায়ী তার উচ্চতা অন্তত এক ফুটের কাছাকাছি রাখার দাবিও করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউজের আরেকটি দাবি ছিল যে পুরস্কার গ্রহণের সময় ট্রাম্পের পাশে দুটি সেনা সদস্য দাঁড়িয়ে থাকবেন, যা একটি জাতীয় ও সামরিক শুদ্ধতা ও অনুষ্ঠানের গুরুত্ব-বোধ তৈরি করতে বলা হয়েছিল; যদিও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, তবে ট্রাম্পকে পুরস্কার তুলে দেয়ার সময় দুটি মার্কিন নৌসদস্য হাজির ছিলেন।
টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে ট্রাম্প নিজেই ফিফার সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ-আপনি এই সম্মান তুলেছিলেন—এর আগে ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার পরই ফিফা এই পিস প্রাইজ-এর ঘোষণা দেয়, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একটি আলোচিত ইঙ্গিত হতে পারে। হার লাইনেও ছিল যে, ঘটনাটি যেন যেন প্রকাশ্যে ‘নিরপেক্ষ’ দেখানো হলেও আসলে পূর্বেই সমঝোতা ও পরিকল্পিত ছিল—এটি কড়া প্রশ্ন তুলেছে ক্রীড়া সংস্থা ও রাজনৈতিক গোচারণের মধ্যে সীমা কোথায়।
এরপরই আরও বিতর্ক মৃদু থাকে না: ফিফার নৈতিকতা পর্যবেক্ষক সংস্থা একটি তদন্ত শুরু করে এবং কিছু মানবাধিকার ও অধিকার সংগঠন ফেয়ারস্কয়ার অভিযোগ করে যে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাঁর নিরপেক্ষতার নীতির লঙ্ঘন করেছেন, বিশেষ করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে তিনি এই পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন—যা ফিফা সম্পর্কিত নৈতিকতা কোডের Article 15-এর বিরুদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ফিফা পিস প্রাইজ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সম্পর্কের প্রশ্ন উঠে এসেছে—এটি কেবল একটি পুরস্কারের অনুষ্ঠান ছিল বলে দেখালেও তার পেছনের শর্তাবলি, শাসনিক সমঝোতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি-ছবি তা ক্রীড়া-বিশ্বের নিরপেক্ষ নীতিকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনা ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গন দুটোতেও আলোচনার ঝড় তুলেছে এবং ভবিষ্যতে ফিফার নৈতিক কোড ও পুরস্কার প্রদানের নিয়মাবলি পুনর্বিবেচনায়ের দাবি তোলার সম্ভাবনাও তৈরি করেছে, যেখানে জাতীয় নেতৃত্বের সাথে সংযুক্ত পুরস্কার প্রদানের শর্তগুলো কি কখনও গ্রহণযোগ্য বা নৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হতে পারে—এটি পরবর্তী সময়ে আরও সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।




