দুবাইয়ে আয়োজিত এশিয়া কাপ ২০২৫–এর ফাইনালে ক্রিকেটের মেজাজ যখন চড়ছিল এবং ভারতের দল মাঠে জয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছিল, ঠিক তখনই পুরস্কারপ্রদানের মঞ্চে এক নতুন কূটনৈতিক-খেলার নর্ম দেখা গেল; এশিয়া ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC)–এর সভাপতি ও পাকিস্তানি মন্ত্রী মোহসিন নাকভি যদি পুরস্কার তুলে দেন, সেই ঘোষণায় ভারত অধিবেশন ছেড়ে যায় এবং খেলোয়াড়রা স্পষ্টভাবে ট্রফি গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন — পরে দেখা যায় যে নাকভি টেবিল থেকে ট্রফিটি তুলে নিয়ে সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে গেছেন, ফলে ভারতীয় দলের হাতে আনুষ্ঠানিক ট্রফি পৌঁছায়নি এবং পুরষ্কারগ্রহণ অনুষ্ঠানেও ওই সময় নানা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়; ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)–র শীর্ষ নেতারা নির্দেশ দেন যে তারা পুরস্কারের মেয়াদ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তুলবে এবং পরে ভারতীয় অংশগ্রহনের প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে পুরস্কারটি পরে ACC–এর অফিসে থেকে নেওয়া সম্ভব হবে, তবু খেলোয়াড়দের অনিচ্ছা ও নাকভির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যমে বেগবান হয়।

5 Oct 2025 | Pic: Collected
এই ঘটনার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মহলে নাকভির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয় এবং স্থানীয় সংবাদসূত্রে জানা যায় যে তাঁকে ‘বীরত্বপূর্ণ’ সিদ্ধান্তের স্বীকৃতি হিসেবে একটি স্বর্ণপদক বা জাতীয় সম্মান দেওয়ার প্রস্তাব ইতোমধ্যেই উঠেছে—কিছু মিডিয়া রিপোর্ট বলছে যে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ নাকভিকে ‘শহীদ জুলফিকার আলি ভুট্টো এক্সেলেন্স গোল্ড মেডেল’ দিয়ে সম্মানিত করার পরিকল্পনা করছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া-ডিপ্লোম্যাসিতে বিদ্রুপ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় ক্রিকেটার ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র—অনেকে সমর্থন করছেন যে রাজনীতি খেলায় যাবে না, আবার অনেকে বলছেন যে খেলা ও কূটনীতি একে অপরকে অপ্রতুল করছে এবং যার ফলে খেলাধুলার ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হচ্ছে; ভারতীয় দলের কিছু খেলোয়াড়রা ট্রফি না নেওয়ার সময় হাস্যরস মিশ্র কিছু নৈপুণ্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন এবং পরে অনলাইনে ‘ইমাজিনারি ট্রফি’ দিয়ে মজার ছল অবলম্বন করে, যা সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং নেটিজেনদের মধ্যে মানুষ বিভিন্ন ভঙ্গিতে এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন—একটি ক্রীড়া ইভেন্টের সময় কিভাবে এ ধরনের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলল এবং ACC–এর চেয়ারম্যান হিসেবে একজন রাজনীতিবিদ ও একটি দেশের মন্ত্রী যে অবস্থানে আছেন, সেটি কি নিরপেক্ষভাবে পুরস্কার বিতরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হিসেবে ACC ও হোস্ট আয়োজকরা বলেছেন যে অনুষ্ঠানটি শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে সর্বোচিত চেষ্টা করা হয়, কিন্তু বাস্তবে পুরস্কারগ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিকল্প কৌশল নেওয়া হয়েছিল।প্রসঙ্গত, এ ধরনের ঘটনাবলি ক্রীড়া-ম্যাচকে কেবল খেলার স্তরে ছেড়ে না রেখে রাজনীতির মঞ্চেও ঠেলে দেয়—এবং যে কোনো সময় প্রতিপক্ষ দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধির উপস্থিতি হলে খেলা কিভাবে উদযাপিত হবে সেটা নিয়ে নতুন নীতিমালা ও প্রটোকল তৈরির দাবি উঠতে পারে; কিছু বিশ্লেষক বলছেন যে ভবিষ্যতে এ ধরনের উৎসবের সময় পুরস্কার-হস্তান্তরের দায়িত্ব কোনো নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষকে দেয়া উচিত যাতে দ্বৈত ইস্যু বা রাজনৈতিক কাকোনও প্রভাবে খেলোয়াড়েরা বিরক্ত না হন।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নাকভির সিদ্ধান্তকে ধন্যবাদ জানাতে যে পরিকল্পনা চালু হয়েছে, সেটিও দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন; হোম মিডিয়ায় নাকভির পদক্ষেপকে ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশ্ন উঠেছে যে ক্রীড়া সংস্থা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। সেই সঙ্গে, ক্রিকেট ইতিহাসে জয়ের রেকর্ড ও আনুষ্ঠানিক নাম-পঞ্জিকরণ কোন দিক থেকে মনোনীত থাকবে—বিজয় কি রেকর্ডবুকে লিখিত বা কেবল মাঠে অর্জিত হিসেবে গণ্য হবে—এই প্রশ্নও উঠে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলে চলেছেন, ম্যাচের ফল মাঠেই চূড়ান্ত; কিন্তু ট্রফি ও স্মারক গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় অনুষ্ঠানগ্রাহী দিক থেকে অস্বস্তি ধন্যবাদহীন মনে হয়েছে।এই ঘটনায় ক্রীড়া-প্রশাসন, কূটনীতিবিদ ও মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে একটি গভীর আলোচনা শুরু হয়েছে—কেউ বলছেন, ক্রীড়া উভয় দেশের জনগণের মধ্যে সংহতি ও বন্ধুত্ব বাড়ায়, আবার কেউ বলছেন রাজনৈতিক উত্তেজনা হলে খেলা তার নির্দিষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে না; ফলে এশিয়া কাপ ট্রফি-ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য একটি নজির স্থাপন করলো যে ক্রীড়া ও রাজনীতি কখনোই পুরোপুরি আলাদা রাখার সম্ভাবনা নাও থাকে। শেষপর্যন্ত, ঘটনার প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে ACC–এর ও দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বার্তা ও অনুসরণীয় সিদ্ধান্তের উপর—তবে এখনই নিশ্চিত যে বিষয়টি কেবল ক্রীড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে অনেক বড় একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিফলন হিসেবে রয়ে গেছে।




