প্রায় ১৪৮ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার দল এক বিরল ও প্রতীকী রেকর্ড গড়তে চলেছে — তারা প্রথমবারের মতো দুটি আদিবাসী ক্রিকেটারকে একসাথে একটি টেস্ট একাদশে সুযোগ দিচ্ছে। এটি একটি দীর্ঘ অপেক্ষার ফল, কারণ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে আদিবাসী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ সবসময় সীমিত ছিল, এবং এখন এই ধরণের মিলন ইতিহাসের নতুন অধ্যায় খেলাপরিস্থিতিতে প্রবেশ করাচ্ছে।

20 Nov 2025 | Pic: Collected
নিউইয়র্কের Bangla BDNews24-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, স্কট বোল্যান্ড ও ব্রেন্ডন ডগেট—দুজনেই আদিবাসী—অস্ট্রেলিয়ার শুরুর একাদশের অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রথম টেস্টে। এই একাদশ ঘোষণার সঙ্গে কুর্নোয়ারি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে, কারণ এর আগে এতিল দিন পর্যন্ত একাদশে একাধিক আদিবাসী খেলোয়াড় একসাথে দেখা যায়নি।
আমরা যদি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ফিরে যাই, তাহলে দেখব যে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়েছিল ১৮৭৭ সালে; এরপর দীর্ঘ সময়ে টিমে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব শুধু সীমিত ছিল। তবে গত কয়েকটি বছর ধরে এই ধারা পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। বোল্যান্ড ইতিমধ্যেই দলে ছিলেন, এবং এবার ডগেটের অভিষেক সেই পরিবর্তনের দৃশ্যমান অংশ।
এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্রীড়াপার্বণের অংশ নয় — এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা, যা অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি স্বীকৃতি ও অন্তর্ভুক্তির দিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ক্রিকেট বোর্ডের রাজনৈতিক ও ন্যায্যতার দৃষ্টিভঙ্গায় এক উত্তরোত্তর পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
অস্ট্রেলিয়ার কোচ ও নির্বাচকগণ জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রতীকী নয়; তারা নিশ্চিত করেছেন যে বোল্যান্ড ও ডগেটের পারফরম্যান্স এবং সামর্থ্য তাদের একাদশে সুযোগ পেতেই স্বীকৃতির ভিত্তি। ডগেট ইতিমধ্যে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এবং এখন সেই ভূমিকা টেস্ট লেভেলে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই অবস্থায় শুরু হতে যাওয়া সিরিজে, বিশেষ করে তাদের ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে দলে মিলিত এই নতুন গঠন কেমন পারফর্ম করবে, সেটি ক্রিকেট বিশ্ব কৌতূহলসহ দেখছে। একই সঙ্গে, এই রেকর্ড গড়া কেবল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে নয়, সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বে এক ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে লেখা হতে পারে।
সার্বিকভাবে, অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন একাদশ নির্বাচন কেবল একটি দলগত সিদ্ধান্ত নয় — এটি প্রজন্মান্তরে এক নতুন বার্তা, যে ক্রিকেট শুধু খেলাই নয়, এটি একটি সমতার মঞ্চ, যেখানে প্রতিটি সম্প্রদায়ের প্রতিভার স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং ইতিহাস গড়া হচ্ছে নতুনভাবে।




