বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল অবশেষে ২২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে হারিয়েছিলো, যা লাল-সবুজ জনতার জন্য এক অনন্য আনন্দ এবং গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। জগান্তর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই জয় এসেছে এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার পর্বে।

18 Nov 2025 | Pic: Collected
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে, যেখানে বাংলাদেশ তাদের শক্তি ও একাগ্রতা পুরোপুরি খেলে দেখিয়েছে। আউটলুক ইনডিয়া জানিয়েছে, মোরসালিন প্রথমার্ধেই একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে ভারতকে এগিয়ে রাখে এবং তারপর বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা একনিষ্ঠভাবে ভারতীয় আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়।
এই জয়ের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায় কারণ ২২ বছর পর প্রথমবার বাংলাদেশ ভারত জিতেছে, যা তাদের জন্য একটি দারুণ মাইলফলক। The Daily Star-এর পরিসংখ্যানও বলেছে, গত জয়টি ছিলো ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সেমিফাইনালে, এবং এর পর থেকে ২২ বছর পার হয়ে গেছে।
ভারত দলও এই ম্যাচটির আগে কিছু চাপ অনুভব করেছিলো। ভারতে কোচ খালিদ জামিল বলেছিলেন, “এটা তো চাপের খেলা।” এছাড়া আমন্ত্রণমূলক তথ্য রয়েছে যে, দীর্ঘদিন পর আবার ধরা যাবে ভারত-বাংলাদেশ মুখোমুখি ম্যাচ, যা দুই পক্ষের দর্শক ও খেলোয়াড় উভয়ের জন্যই একটি বড় উত্তেজনার বিষয় ছিল।
বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাব্রেরা ও তাঁর খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছেন — কঠোর প্রতিরক্ষা, দ্রুত গতির কাটিং এবং কন্ট্রোলড পেস ছিল তাদের মূল অস্ত্র। ভারত বহুবার আক্রমণ গড়লেও, বাংলাদেশের রক্ষা এবং গোলরক্ষক তাদের ঝুঁকি‐মুক্ত হিসেবে রাখার জন্য দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পেরেছেন।
কোল্ড-রানি বা ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়াও ছিল আবেগময়। বাংলাদেশের অনুরাগী ও ফুটবল সমর্থকরা স্টেডিয়ামে মুখে হাসি, চাউল এবং স্লোগান নিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দ উদযাপন করেছেন। এই ম্যাচটি কেবল পয়েন্ট বা কোয়ালিফায়ার দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, মানসিকভাবে একটি শক্তিশালী বার্তা ছিল — যে বাংলাদেশ নিজের গৌরব ফিরে পেতে সক্ষম।
এই জয়ের মাধ্যমে লাল-সবুজরা প্রমাণ করল, তারা বড় ম্যাচে পারস্পরিক স্বীকৃতি পেতে পারে এবং প্রতিবেশী শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করতে পারে। কোচ কাব্রেরা বলেছেন, “এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং আমাদের লক্ষ্য হল ভবিষ্যতে আরও বড় আসরে প্রতিযোগিতা করা।”
সার্বিকভাবে, বাংলাদেশের এই ১–০ জয় কেবল একটি ম্যাচের বিজয় নয় — এটি এক উত্তেজনাপূর্ণ নতুন অধ্যায়, যেখানে দলের লড়াকু মনোভাব, নতুন প্রতিভা এবং জাতীয় আত্মবিশ্বাস একসাথে মিলিয়ে বড় স্বপ্ন দেখানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে।




