গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় থাকা আরব আমিরাতে (ইউএই) আটক ২৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক শিগগিরই কারামুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন — এমন আশ্চর্যসুন্দর খবর এল। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা Asif Nazrul তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানান, “আল হামদুলিল্লাহ। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমাদের প্রচেষ্টা অবশেষে সাফল্যর মুখ দেখেছে। আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে আটক ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়া হবে।”

28 Nov 2025 | Pic: Collected
এরা হল সেই প্রবাসীরা, যারা গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে — বাড়তি অনুষ্ঠানে নয় — সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্র–জনতার গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হন। তারপর থেকে তাদের কারাগারে রাখা হয়েছিল। যদিও প্রথম দফায় ১৮৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ২৪ জন নিয়েই ছিল উদ্বেগ। কিন্তু এখন, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক চেষ্টার পর তাদের মুক্তির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগের মুক্তিপ্রাপ্ত ১৮৮ জন বাংলাদেশি কারামুক্ত হয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দেশে ফিরতে শুরু করেছিলেন। তখন গৃহীত উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গন থেকে যে সহযোগিতা এসেছে — তার ধারাবাহিকতায় এবার অবশিষ্ট ২৪ জনের মুক্তিও কার্যত নিশ্চিত।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার পোস্টে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউএইতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের — কারণ তাদের দফায়-দফায় উদ্যোগ এবং চেষ্টার জন্য এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন সময়ে, যখন সর্বদা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানুষ-অধিকার ও অভিবাসী সমস্যা গুরুত্ব পাচ্ছে। বেসরকারি সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, ইউএই সরকারের সাম্প্রতিক সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষমা ও জেলমুক্তি অভিযানের অংশ হিসেবে প্রায় ৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে — এবং বাংলাদেশের কারাবন্দিদের বিষয়টিও সম্ভবত সেই প্রেক্ষাপটেই।
এবার যারা মুক্ত হচ্ছেন, তারা তাদের পরিবার ও দেশে ফিরে এসে পরিবার পুনর্মিলন এবং নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ দিন নির্দিষ্ট তথ্য-ভোগান্তি, আইনি ঝামেলা এবং মানসিক উদ্বেগের মধ্যে কাটিয়ে দেওয়ার পর, এ জন্য পরিবার এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি ফিরে আসবে।
তবে এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত মুক্তির প্রেক্ষিত নয় — এটি প্রবাসী কর্মী, অভিবাসী ও মানবাধিকার বিষয় নিয়ে সরকারের অবস্থান, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা, এবং বাংলাদেশের প্রতি বিদেশি সরকারের নীতি-নির্ধারক দৃষ্টিকোণের একটি পরিমাপ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে — সরকারের পক্ষ থেকে কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে না হয়? কারা দায়িত্বে থাকবে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা-অধিকার কী হবে, অভিবাসী নিয়োগ ও শিল্পপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নতুন কী নীতি গঠন করা হবে — এসবই এখন আলোচনায়।
সংক্ষেপে — আরব আমিরাতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সমর্থনে আন্দোলনের কারণে আটক ২৪ জন বাংলাদেশি কারাবন্দি অবস্থা থেকে শিগগিরই মুক্তি পাবে, এমন নিশ্চিত তথ্য দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা Asif Nazrul। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আশা, এবং আন্তর্জাতিক মিত্রতা ও কূটনীতির সফলতাও।




