সম্প্রতি আলোচিত রাজনৈতিক ঘটনা হলো — অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন, সমবায় ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পদত্যাগ করেছেন, এবং সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি আসিফকে রাজপথের সংগ্রাম থেকে গড়ে ওঠা নেতা হিসেবে অভিহিত করে স্বাগতম জানিয়েছেন। গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুরে নুরুল হক নুর লিখেছেন, ‘‘আসিফ হঠাৎ গজিয়ে ওঠা বা ২০/২৫ দিনের আন্দোলনের কোনো নেতা নয়; তিনি ফ্যাসিবাদের উত্তাল সময়ে রাজপথের সংগ্রাম থেকে গড়ে ওঠা নেতা এবং আমার সংগ্রামের সারথি ছিলেন,’’ এবং উল্লেখ করেছেন যে আসিফ “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিপ্রায় থেকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন” যদিও তিনি এখনো কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদান করেননি, তবে ‘‘হয়তো শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে’’ বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন নুর। নুর আরও লিখেছেন, ‘‘দায়িত্বে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে; বয়সের অনভিজ্ঞতা কিংবা ম্যাচিউরিটির অভাবে হয়তো সেও কিছু ভুল করেছে, কিন্তু আমার কাছে সংগ্রামের অবদানে তার সে ভুল তুচ্ছ। আসিফকে সংগ্রামের রাজনীতিতে স্বাগতম জানাই,’’ এমন উক্তি দিয়ে তিনি আসিফের প্রতি সমর্থন ও সম্মান প্রকাশ করেছেন। এই মন্তব্য Jugantor-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি নুরের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া।
11 Dec 2025 | Pic: Collected
আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম যিনি তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন উভয়েই যৌথভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে সংবাদ সংস্থা এই খবর জানিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ও এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে পদত্যাগটি যুক্ত রয়েছে।
আসিফ নিজেও গত কয়েকদিনে একাধিকবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ১০ ডিসেম্বর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন যে, তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি “প্রেস উইং” অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে এবং তিনি ভোটে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি আরও বলেন, “এ মুহুর্তে পদত্যাগ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারি না, প্রয়োজন হলে প্রেস উইং থেকে তথ্য দেওয়া হবে।” তিনি একসঙ্গে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি আসন্ন নির্বাচনগুলোতে অংশ নেবেন।
প্রসঙ্গত, আসিফ মাহমুদ রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই একটি পরিচিত নাম। তিনি পূর্বেও বলেন যে, যারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চান তারা অবশ্যই সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দেবেন; তিনি এমনটাই উল্লেখ করেছিলেন, ‘‘যদি কোনো উপদেষ্টা রাজনীতিতে যুক্ত হন, তারা অবশ্যই পদত্যাগ করবেন’’ এবং শেষ পর্যন্ত নিজের পদত্যাগের মাধ্যমে সেই নীতিমালাকে অনুসরণ করেছেন।
আগেও রাজনৈতিক মহলে এবং সমর্থকদের মাঝে আসিফ ও মাহফুজ-এর পদত্যাগ দাবি উঠেছিল। উদাহরণস্বরূপ, বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা ইশরাক হোসেন গত বছরে দাবি করেছিলেন ‘‘উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমকে পদত্যাগ করতে হবে’’ এবং সমর্থকদেরকে রাস্তায় থাকতে বলেছিলেন যতদিন না তারা পদত্যাগ করেন।
নুরুল হক নুরের বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে তিনি আসিফকে রাজনৈতিক সংগ্রামের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন এবং তার অতীত কর্মকাণ্ড বিশেষ করে ২০২৪-২০২৫ সালের ফ্যাসিবাদের বিরোধী আন্দোলন তিনি মূল্যায়ন করেছেন। নুরের হাইলাইট করা বক্তব্যগুলোতে এটাও স্পষ্ট যে তিনি আসিফের ভুল-ত্রুটি নিয়েও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করেছেন এবং মনে করেন আসিফের অবদান গুরুত্বপুর্ণ।
এই পদত্যাগের ঘটনা বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি তৈরি করেছে, কারণ এটি কোনো সাধারণ ইস্তফা নয়; এটি এমন এক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যেখানে সরকার, বিরোধী দল বা নিরপেক্ষ সরকারি কর্মীরা যাঁরা পূর্বে প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন এখন সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন। এতে রাজনৈতিক দলগুলো ও সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া, দলীয় সমর্থন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।
পদত্যাগের সঙ্গে সংযুক্ত সংবাদগুলো সর্বত্রই নির্দেশ করছে যে দলীয় রাজনীতি, উপদেষ্টা-স্তরের দায়িত্ব এবং নির্বাচন-সম্পর্কিত প্রস্তুতিতে সম্পর্কিত অনেকগুলো বিষয় এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে রাজনৈতিক আবেগ, নেতৃত্ব, এবং দলের ভবিষ্যত কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ঘোষণা ও প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিস্থিতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।



