ইউক্রেন এক বিরল ঘোষণা দিয়েছে—তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অনুরোধ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য। অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে সংগৃহীত অন্তত ১৫০,০০০ টন গম “চুরি” হয়ে, রুশ বন্দরে মিশিয়ে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ।

Source: Jugantor | 27 June 2025 | Pic: Collected
আগের সতর্কবার্তা ও চিঠির বিবরণ
● চলতি বছরে ইউক্রেনের নয়াদিল্লি দূতাবাস ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চারবার চিঠি পাঠিয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ছিল সংশ্লিষ্ট জাহাজের নাম, রেজিস্ট্রেশন নং ও যাত্রা–সময় ইত্যাদি। এগুলো ছিল নভেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫-এর মধ্যে কফকাজ বন্দর থেকে রওনা হওয়া জাহাজ নিয়ে ।
● ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত ওলেক্সান্ডার পোলিশচুক বলেছেন, “ঢাকা কোনো উত্তর দেনি, তাই ইইউ–তে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জানানো হবে” ।
● পোলিশচুক আরও বলেন, “এটি একটি অপরাধ” এবং তারা গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে ইইউ–কে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাবে ।
কিভাবে গম ঢুকছে?
ইউক্রেনের গোয়েন্দা অনুসারে, রাশিয়া দখল করা অঞ্চল থেকে সংগৃহীত গমকে রুশ গমের সঙ্গে মিশিয়ে রপ্তানি করছে—যাতে উৎস শনাক্ত কঠিন হয় । রুশ বন্দর থেকে লোডের সময় “স্বর্ণ বা হীরা নয়, তাই উৎস শনাক্ত কঠিন” এমন মন্তব্যও করেছে এক রুশ ব্যবসায়ী ।
বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্স‑কে জানিয়েছে যে, “ঢাকা কখনো চুরি করা গম আমদানি করে না” এবং “রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চল থেকে উৎপাদিত গম” সরাসরি আমদানি করা হয়নি i। তবে এর কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া বা রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
ইইউ–র আগে নেওয়া পদক্ষেপ
ইইউ ইতোমধ্যে রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহরে’ ৩৪২টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে, যা তেল, অস্ত্র ও শস্য পরিবহনে ব্যবহৃত হতে পারে—তবে বাংলাদেশের কোনও সংক্রান্ত জাহাজ এখনও উল্লিখিত হয়নি ।
পর্যালোচনা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়
১. ডিপ্লোম্যাটিক চাপ
চিঠির মাধ্যমে ১৫০,০০০ টন ‘অবৈধ’ গম আমদানি বন্ধে আগেই সচেতন করার চেষ্টা চালানো হয়ে গেছে, কিন্তু ঢাকা তাতে সাড়া দেয়নি। ফলে এই ইস্যু ইইউ–র নজরে প্রবেশ করছে।
- আইনি–মানবিক দিক
ইউক্রেন বলছে, এ ধরনের আমদানি “মানবিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে” দেয়। আবার বাংলাদেশ বলছে, তারা সবসময় রপ্তানিকারক দেশ থেকে উৎস যাচাই করে। - বাংলাদেশ–ইউক্রেন সম্পর্ক
দুই দেশের কৃষি ভিত্তিক সহযোগিতা ২০১০ সালের পর থেকে দৃঢ়—বিশেষ করে নিয়ন্ত্রণমূলক ও ব্যবসায়িক অংশে । এখন এই ইস্যু তাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অবকাঠামোয় ফাটল ধরতে পারে। - ইইউ বাংলাদেশের ওপর কি অনশন ঘোষণা করতে পারে?
ইউক্রেনের তদন্ত রিপোর্টে যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ইইউ শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই নয়, সরকারের কর্মকর্তাদেরও তালিকাভুক্ত করতে পারে । এটা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও বাণিজ্য–পরিকাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউক্রেন ও রুশ অধিকৃত অঞ্চলের গমের অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগে, ইউক্রেন ইইউ–তে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার প্রতিপক্ষের বক্তব্য বলছে—আমরা ন্যায্য বাণিজ্য করি। তবে রাশিয়ার সঙ্গে খোলাখুলিভাবে বাণিজ্যে জড়িত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ ও ছায়া নৌবহরের জাহাজের শনাক্তকরণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে ইইউয়ের কোন সিদ্ধান্ত আসতে পারে, তা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটভূমিতে বড় প্রভাব ফেলবে।




