জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ঘোষণা করেছেন যে তিনি এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন না, এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই ঘোষণা তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সন্ধ্যায় দিয়েছেন।
27 Dec 2025 | Pic: Collected
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, “বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি দেশের ও ঢাকা-৯ অঞ্চলের মানুষকে আগেই করেছিল “নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার প্রতিশ্রুতি” রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যাক্তি হিসেবে এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়াই চালাবেন।
ডা. জারা আরও বলেন, “একটা দলের প্রার্থী হলে সেই দলের স্থানীয় অফিস থাকে, সুসংগঠিত কর্মী-বাহিনী থাকে এবং সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে আমি যেহেতু কোনো দলের সঙ্গে থাকছি না, তাই আমার সেসব কিছুই থাকবে না। আমার একমাত্র ভরসা আপনারা।” তিনি ভোটারদের কাছে সততা, নিষ্ঠা ও নতুন রাজনীতি করার ইচ্ছাশক্তি-র ওপর ভিত্তি করে তাদের স্নেহ ও সমর্থন চাইবেন।
ডা. তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন এবং পার্টি গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ১২৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার সময় তাকে ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি দল থেকে পদত্যাগের পাশাপাশি নির্বাচন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে করার ঘোষণা দেন।
তাসনিম জারা নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন, “আমি আপনাদের এবং দেশের মানুষকে ওয়াদা করেছিলাম যে আপনাদের জন্য এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার জন্য আমি লড়ব। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি আমার সেই ওয়াদা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই আমি এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ থেকে অংশগ্রহণ করব।”
তার পোস্টে তিনি বলেন যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে আইনিভাবে প্রয়োজন হবে ঢাকা-৯ আসনের প্রায় ৪,৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ, এবং তারা আগামীকাল থেকে সেই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করবেন। তিনি সমর্থকদের সাহায্যের আবেদন জানিয়ে বলেছেন, “এই কাজটি স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়।”
পোস্টে তাসনিম জারা উল্লেখ করেছেন যে যারা নির্বাচনী ফান্ড-রাইজিংয়ে অর্থ প্রদান করেছেন এবং এখন স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্তের কারণে আর তাদের সমর্থন করতে না চান, তাদের অর্থ ফেরত প্রদান করা হবে। তিনি নির্দিষ্ট ফর্ম ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিকাশ ও ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন।
এনসিপি-এর অভ্যন্তরে কিছুদিন ধরে জোট নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। দলটি ঘনিষ্ঠ জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা বা জোট তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা চলে আসছিল। কিছু দলে এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্দোলন বা মতৈক্য দেখা দিয়েছে, যদিও এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি ২৮ ডিসেম্বর হওয়ার কথা ছিল।
এই পরিস্থিতিতে তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা রাজনৈতিক ছবিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক এলাকায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার এই সিদ্ধান্ত ঢাকা-৯ আসন-এ নির্বাচনী প্রতিযোগিতা ও ভোটারের মনোভাবকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করতে পারে।



