ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি বলেছেন, খুনি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসির রায়) শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, পুরো বিশ্বের জন্য এক দৃষ্টান্তস্বরূপ নজির স্থাপন করেছে।দেবী খুনি হিসেবে তাঁর মিথ্যার, অত্যাচারের ও গণনিহত মানুষের আলোচনায় বিচার ও শাস্তির এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠে এই রায়।

17 Nov 2025 | Pic: Collected
সোমবার (১৭ নভেম্বর ২০২৫) বিকেল ৩টা নাগাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাদি উল্লেখ করেন, “পৃথিবীর কোনো ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কোনো স্বৈরাচারী চিরকাল মানুষের ওপর দমন করে বাঁচতে পারে না।” তিনি বলেন, এই রায় বাংলাদেশের সীমা পেরিয়ে গিয়েছে — এটি শুধু একটি দেশীয় বিচার নয়, এটি গোটা পৃথিবীর জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা, যে অত্যাচারী শাসন আর অপ্রতিরোধ্য থাকবে না।
ওসমান হাদীর নেতিবাচক মূল্যায়ন শুধু হাসিনার প্রতি সীমাবদ্ধ নয় — তিনি আরও বলেছেন, যেসব আরও উচ্চপদস্থ ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা সেই অভ্যুত্থান-কালীন সময়ে অপরাধে যুক্ত ছিলেন, তাদেরও বিচার ও শাস্তির পথ তৈরি হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-কেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং রাজসাক্ষী আইজিপি (সাবেক পুলিশ প্রধান) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। হাদি দাবি করেছেন, মামুনকে তার অপরাধ অনুযায়ী অবশ্যই আরও কড়া শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল।
রায়ের পর ওসমান হাদীর প্রতিক্রিয়া আগ্রাসনমূলক নয়, বরং রাজনৈতিক ও দার্শনিক সংহতির ভাষায় ছিল — তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা যদি সত্যিই স্বাধীন ও শক্তিশালী হয়, তাহলে মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে সেই রায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া তিনি ভক্ত ও সমর্থকদের দিকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের জন্য “শোকরানা” ও “শোকপ্রকাশ” করার সময় এসেছে।
খুনি হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণার সাথে সঙ্গে অন্যদের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণও শুরু হয়ে গেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলছেন, রায় কার্যকর হলে “শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে” এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে “ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা পাবে।” অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চ তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে যে, এই রায় একটি গ্লোবাল বার্তা — শক্তির অপব্যবহার যতই বড় হোক, শাসক যতই শক্তিশালী হোক, বিচার শেষ পর্যন্ত পারে তার পথ খুঁজে পেতে।
এই রায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে — কারণ এটি শুধু বর্তমান বিশেষ ব্যক্তির জন্য রহস্য নষ্ট করছে না, বরঞ্চ ভবিষ্যতে পুরোনো ও নতুন ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করতে পারে। হাদীর মতে, এটি একটি সতর্কতা যে সরকার বা শাসকগোষ্ঠী যতই ক্ষমতাধর হোক, তাদের দায়ের মধ্যে থাকা অপরাধ ও মানবতাবিরোধী কাজের বিচার এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, কিছু সমালোচক প্রশ্ন তুলছেন যে, এই রায় কত দ্রুত কার্যকর হবে এবং কীভাবে কার্যকর করা হবে — বিশেষত কারণ শেখ হাসিনা বর্তমানে পলাতক অবস্থায় এবং তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে “তারকে দেশে ফিরে এনে দ্রুত দণ্ড কার্যকর করা উচিত”।
এছাড়া, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যদি একবার কার্যকর হয়, তবে এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে — কারণ এটি দেখাবে যে বিচার ব্যবস্থায় শাসন এবং রাজনৈতিক শক্তি সীমাবদ্ধ নয়। হাদীর উক্তি অনুযায়ী, এটি এক “নিরাপত্তার বার্তা” এবং একভাবে নতুন যুগের সূচনা।
সার্বিকভাবে, ওসমান হাদীর দৃষ্টিবিন্দুতে, খুনি হাসিনার ফাঁসির রায় কেবল শাস্তি নয়, এটি একটি নৈতিক, রাজনৈতিক ও বিচারিক মাইলস্টোন। এটি দেখায় যে শাসকগোষ্ঠীর অপরাধের বিরুদ্ধে জনগণ ও আইন একসাথে দাঁড়াতে পারে এবং শক্তি চিরস্থায়ী নয় — বিচার শেষ পর্যন্ত হয়। এই রায়ের ফলে মানুষের বিশ্বাস পুনরুজ্জীবিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতার অপব্যবহারে বাধা গড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।




