আওয়ামী লীগের শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১০ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেছে। ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে মামলার বিচার শুরু করার আদেশ দেন।

23 Dec 2025 | Pic: Collected
এই মামলায় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রসিকিউশন পক্ষে চারটি গুরুতর অভিযোগ আনেন এবং অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। বিচারপতির আদেশ অনুযায়ী মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
এই মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন সেনা কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়েছে—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, এবং আনোয়ার লতিফ খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। ট্রাইব্যুনাল এই মামলার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্বৈরাচারী শাসনামলের গুম কেলেঙ্কারির দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম মামলার শুনানিতে উল্লেখ করেন যে, টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতন রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে।
বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আসামিরা আইনানুগভাবে উভয়পক্ষের যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের প্রতিকার ও আত্মরক্ষা করতে পারবেন। আইন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার সফল বিচার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির প্রাধান্য এবং বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করবে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিভিন্ন দল অংশ নেবেন, যেখানে সেলভিযুক্ত প্রমাণাদি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রতিবেদন বিচারকের নজরকাড়া হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই মামলার স্বচ্ছতা ও আইনি মানদণ্ড রক্ষা করার জন্য মনোযোগী।
বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই মামলার প্রতি নজর রাখছে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং কার্যকর হয়। এই মামলার ফলাফল বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট অনুযায়ী, আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ হওয়ায় তারা সরাসরি আদালতে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন, এবং আগামী শুনানিতে বিস্তারিত প্রমাণ ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হবে। এই মামলার মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির প্রতি অঙ্গীকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।




