বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ লন্ডন-ঢাকা রুটের বিজি-২০২ ফ্লাইট থেকে দুই কেবিন ক্রুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—যদিও এর পেছনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা-সম্পর্কিত গুরুতর অভিযোগ থাকার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইটটিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ঠিক অভিযাত্রী হিসেবে ঢাকা ফিরে আসবেন বলে নির্ধারিত। এই ঘটনা রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের দিক থেকে এখন দেশজুড়ে আলোচনায় রয়েছে।

21 Dec 2025 | Pic: Collected
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সূত্র জানিয়েছে যে জুনিয়র পার্সার মো: সওগাতুল আলম সওগাত ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস জিনিয়া ইসলাম—এই দুই কেবিন ক্রুকে গত ২০ ডিসেম্বর রাতের দিকে ফ্লাইটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবর্তে জুনিয়র পার্সার মোস্তফা ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস আয়াত কে বরাদ্দ করা হয়েছে, ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের তরফ থেকে এমনই জানানো হয়েছে।
বিমান সূত্র জানিয়েছে যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও তথ্য বিশ্লেষণে এই দুই কেবিন ক্রুর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এর ওপর ভিত্তি করে মনে করা হয়েছিল যে ভিআইপি যাত্রী হিসেবে শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তার প্রতি ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে, তাই সতর্কতার স্বার্থে তাদের সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বিমান সূত্র আরও জানিয়েছে যে ওই ফ্লাইটে শুধু তারেক রহমান থাকবেন তা নয়, তারেক রহমানের পরিবার ও বিএনপি শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণও রয়েছে বলে জানা গেছে। এমন ওই পরিবেশে VIP নিরাপত্তা বৃদ্ধির দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ঘটনাটি মোটেও প্রথম নয়, এর আগেও ২০২৫ সালের ২ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি ফ্লাইট থেকে একই কারণে দুই কেবিন ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তখনও গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এই প্রক্রিয়া কার্যক্রমে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন যে, VIP যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হয় এবং এর জন্য প্রাক-ফ্লাইট গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এতে যদি কোনCrew Member-এর রাজনৈতিক গঠন ও পরিচিতি ভিত্তিতে সংশয়াবোধ দেখা দেয় বা নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব বদলানো হতে পারে—এমন একটি সাধারণ নীতি অনুসরণ করা হয়।
কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ আছে যে এই দুই কেবিন ক্রু নিয়মিতভাবে প্রায়ই সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সেলিমের ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করত, এবং সেই কারণেও তাদের রাজনৈতিক সংযোগ ও পেশাদারি পরিচয়ের ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। এসব প্রেক্ষাপটে তাদের নাম ফ্লাইট ক্রু তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ফ্লাইটে তাদের পরিবর্তে নিযুক্ত করা হয়েছে মোস্তফা ও আয়াত—এদের দায়িত্বে রেখেই এখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটটি পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিমান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে এই ধরনের পরিবর্তন প্রায়ই গোয়েন্দা তথ্য-ভিত্তিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও VIP নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করা হয়, এবং এটি সাধারণ কর্ম-সংস্কৃতির অপমান বা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে নেওয়া উচিত নয়—এরকমই একটি পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা এসেছে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উভয়ের দিকেই গুরুতর গুরুত্ব রাখে, এবং এর আইনি, মানবিক ও পেশাদারিসভিতিক দিকগুলোও ব্যাপকভাবে আলোচনা ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন, যাতে কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নীতিগুলোর মধ্যে একটি সুষম সমাধান তৈরি করা যায়।




