২০২৫ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তন আনলো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার সম্প্রতি ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে, যার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখন থেকে বছরের যেকোনো সময় ভোটার তালিকা সংশোধন ও প্রকাশ করতে পারবে, আগে যা ছিল কেবল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। এতদিন ধরে প্রচলিত নিয়ম ছিল—জানুয়ারির ১ তারিখে যাদের বয়স ১৮ পূর্ণ হতো, শুধুমাত্র তারাই ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতেন।

25 July 2025 | Pic: Collected
কিন্তু নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ভোটের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত যেসব নাগরিক ১৮ বছরে পা দেবেন, তাদের সবাইকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে ইসি, যা তরুণ ভোটারদের অন্তর্ভুক্তিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো তরুণের জন্মদিন যদি জানুয়ারি ২ তারিখ থেকে তফসিল ঘোষণার দিন পর্যন্ত হয়, তবে তিনিও এখন ভোটার হতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নাগরিককে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে।
এই উদ্যোগের ফলে বিপুল সংখ্যক নতুন তরুণ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন, যা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের দিক থেকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন এই অধ্যাদেশে ধারা ৩(ক) এবং ধারা ১১ সংশোধন করে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও নমনীয়তা আনা হয়েছে। এতে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ছাড়াও, মৃত বা অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া, ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা এবং তথ্য সংশোধনের সুযোগকে আরও সহজতর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ পরিবর্তনের ফলে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় আরও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং হালনাগাদ ভোটার তালিকার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংস্কার তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার নতুন দরজা খুলে দেবে এবং ইসির ওপর জনআস্থাও বাড়াবে। এছাড়াও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের উপর সরকারের এই আস্থা এবং স্বাধীনভাবে তালিকা সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি পরিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি বা বিতর্কের সুযোগ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন ভোটার তালিকার এই সংস্কার গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




