২০২৫ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ফের সরগরম রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই প্রেক্ষাপটে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. মুশাররফ হোসেন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে— নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই নির্বাচন একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জ। দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।”

28 July 2025 | Pic: Collected
তিনি আরও যোগ করেন, যারা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা বিরোধী দলের কর্মীদের হয়রানি করা হবে, এমন কোনো আচরণ সহ্য করা হবে না। প্রশাসনকে জনগণের পক্ষে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় চলারও আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলা হয়, যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অরাজকতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দলমত নির্বিশেষে সবাই যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নির্দেশনায় স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে এবার কোনোভাবেই সহনশীলতা দেখানো হবে না, বরং প্রতিটি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টাই ব্যর্থ করে দিতে সরকারপ্রধানের এ বার্তা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোট কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চাওয়া এবং অবজারভারের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, এবার নির্বাচনকালীন প্রশাসন অনেক বেশি কঠোর এবং সচেতন অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ থাকে, তাহলে এ বছর দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে।




