নির্বাচন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঢাকাসহ চার জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এবং সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।

16 Nov 2025 | Pic: Collected
বিজিবি সদর দফতরের মুখপাত্র জানান, “মোতায়েনের সময় আমরা বিশেষ নজর রাখছি জনসমাগম এবং নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য বিজিবি সদস্যদের মাঠে পাঠানো হয়েছে। আমরা চাই জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারুক।” তিনি আরও বলেন, বিজিবি মোতায়েন শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য, সাধারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য করা হয়েছে।
মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্রিজ, মার্কেট ও সরকারি দপ্তর। বিজিবি সদস্যরা সর্বদা প্রস্তুত থাকবেন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। এছাড়া, বিজিবি মোতায়েন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রাখা হবে।
বিজিবি সদস্যরা মোতায়েনকালে সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন এবং প্রয়োজনে জরুরি সেবা প্রদান করবেন। এছাড়া, নির্বাচনী প্রার্থীদের সমাবেশ, রোডশো ও জনসমাগমকে নিরাপদ রাখতে বিজিবি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিজিবি মোতায়েনের কারণে নির্বাচনী কেন্দ্রে জনসাধারণ ও ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
এই পদক্ষেপকে নিয়ে সাধারণ জনগণ ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। ঢাকার কিছু ভোটার বলেন, “বিজিবি মোতায়েনের ফলে আমরা নিরাপদ বোধ করছি। ভোট কেন্দ্রে যাওয়া বা আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে কোনো ঝুঁকি কমবে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি বাজারে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
নির্বাচন কমিশনও বিজিবি মোতায়েনের বিষয়ে খুশি। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী কেন্দ্র ও আশেপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হলে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় আমাদের জন্য সহায়ক হবে।”
বিজিবি সদর দফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোতায়েনকালে সদস্যরা আইনি ও মানবিক দিক বিবেচনা করে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ধরনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ বা নাগরিকদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া, মোতায়েনের সময় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়েও নজর রাখা হবে।
এছাড়া, বিজিবি মোতায়েনের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন জেলা ও শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিজিবি সদস্যরা যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত থাকবেন। মোতায়েনের ফলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ যেমন চুরি, লুটপাট বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের ঘটনা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিবি সদর দফতর জানিয়েছেন, নির্বাচন শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী মোতায়েনের সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। প্রয়োজনে বিজিবি সদস্যদের অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হবে। তবে প্রধান লক্ষ্য হলো ভোট ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সর্বশেষ, মোতায়েনকালে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় জনগণ ও ভোটারদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখবেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করবেন। বিজিবি আশা করছে, এই পদক্ষেপ দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং নির্বাচনের সময় জনজীবনে কোনো ধরনের অস্থিরতা হবে না।




