ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বর্তমান গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরের ওপর সম্প্রতি যে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও নিন্দা শুরু হয়েছে। এ ঘটনার পর রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রেস উইংয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব, এবং নুরের ওপর হামলার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা হবে।।

30 August 2025 | Pic: Collected
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নুরুল হক নুর সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় দুর্নীতি, বৈষম্য ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, যা তাঁকে সাধারণ জনগণের কাছে একটি দৃঢ় কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত করেছে। তাই তাঁর ওপর এই হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ কিনা, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, মানবাধিকার কমিশন ও সুশীল সমাজ নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছে। এ ছাড়া সাধারণ জনগণও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অনেকে লিখেছেন, দেশে যদি রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা না থাকে তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে এ ঘটনার খোঁজ নিয়েছেন এবং নুরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনো প্রভাবশালী মহল বা রাজনৈতিক শক্তি হামলাকারীদের আড়াল করতে পারবে না। ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় প্রাথমিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নুরুল হক নুরের ওপর হামলার বিচার দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হলে তা দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এ ঘটনায় কোনো বিলম্ব হয় বা হামলাকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পায় তবে তা জনগণের আস্থার সংকট তৈরি করবে।




