বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান হচ্ছে ‘যুদ্ধের মানসিকতা’—নিজ মহভূমি আরাকানে ফিরে যেতে হলে প্রয়োজন হতে পারে সশস্ত্র প্রতিরোধের। জুগান্তরের সরেজমিন অনুসন্ধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিজি‑র বিশ্লেষণ অনুযায়ী:

Source: BBC Bangla | 27 June 2025 | Pic: Collected
যুবকদের মায়ানমারের জঙ্গলে প্রশিক্ষণ
কক্সবাজার ও কুতুপালং শিবিরের তরুণরা গোপনে সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারের গভীর জঙ্গলে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সোমার পাঁচ-সাত দিনের ব্যাপারে নয়, কেউ কেউ ছয় মাস পর্যন্ত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, এবং এগুলোর স্থান নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে—তবে শিবিরের ভেতরে সরাসরি প্রশিক্ষণ হয় না ।
গোষ্ঠীগুলোর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), ইসলামিক মাহাজ, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ)–সহ কয়েকটি সংগঠন ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নিয়মিত বৈঠক ও ‘অ্যাওয়ারনেস সেশন’ চালাচ্ছে। এতে তরুণরা যুদ্ধের প্রতি উদ্বুদ্ধ হচ্ছে ।
আইসিজি‑র সতর্কতা
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) আশঙ্কা করছে রোহিঙ্গারা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নামতে পারে। তবে আইসিজি মনোভাব প্রকাশ করেছে, “যুদ্ধের এই প্রয়াস আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সফল হবে না। তবে যদি সংঘর্ষ শুরু হয়, প্রতিকূল প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যত ও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর” ।
স্থানীয়দের অভিমত
একজন কক্সবাজারের স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা রবিউল হোছাইন বলেন, “প্রশিক্ষণ মূলত মায়ানমারে হচ্ছে; বাংলাদেশে নয়। তবে শরণার্থী ক্যাম্প থেকে এ ধরনের তথ্য নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে”—তবে তার দাবি, বাংলাদেশি নিরাপত্তা বাহিনীরা এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো মদদ করেন না ।
বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান
সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সবসময় বলছে শিবিরে অবৈধ অস্ত্র বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর কোনো কার্যক্রম নেই। রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, “বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্র-কারবারের কোনো স্থান নেই, আর এসব সংগঠন মিয়ানমারের”—এই বক্তব্য প্রমাণ করেছে সরকারের সতর্ক ও স্বচ্ছ মনোভাব ।
কক্সবাজার ও কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ‘যুদ্ধপ্রবণ মানসিকতা’ দেখা দিয়েছে—অংশগ্রহণমূলক প্রশিক্ষণ, গোষ্ঠī গঠন ও উদ্বুদ্ধমূলক অনুষ্ঠান এ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। সরকার নিশ্চিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য সন্দেহ দূর করছে না। যুদ্ধ-সদৃশ সংঘর্ষ শুরু হলে তা শুধু বাংলাদেশি সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যত ও বাংলাদেশ–মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেও প্রভাবিত করবে। তাই বিষয়টি না শুধু মনিটর করা, বরং কূটনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তার যুগপৎ সমাধানের দিকে নজরদারি ও কর্মসূচি গ্রহণের অতি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।




