বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বাসনের পর দেশে ফিরে তাঁর বাবা, বিএনপি-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, যেখানে তিনি অশ্রুসিক্ত মুহূর্তে নিজের আবেগকে প্রকাশ করেছেন।
26 Dec 2025 | Pic: Collected
শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টা নাগাদ তারেক রহমান দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ রাজধানীর জিয়া উদ্যান, শের-ই-বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পৌঁছান। সেখানে তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, যার পর গভীর দোয়া-মোনাজাত ও ফাতিহা পাঠ করেন। দীর্ঘ দিন পর নিজের বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি একান্তভাবে কিছুক্ষণ শান্তি ও আত্মিক সমর্পণ দেখান, যেখানে তাঁর চোখে অশ্রু ঝরতে দেখা যায়।
এই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ দলের শীর্ষ নেতারা। তারা মিলে পূর্বপ্রস্তুতভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং মহান নেতার আত্মার শান্তি ও বাংলাদেশের মঙ্গল কামনায় দোয়া করেন।
তারেক রহমান এই সময় বিরল আবেগীয় দৃশ্য উপস্থাপন করেন যখন তিনি বাবার কবরের সামনে কিছুক্ষণ একা দাঁড়িয়ে সুরা ফাতিহা ও দরুদ পাঠ করেন, এবং দোয়ার পরে নিজের চোখের পানি টিস্যু দিয়ে মুছতে দেখা যায়। দলের বহু নেতাকর্মীও চোখে জল ধরে তাঁর এই আবেগঘন মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই শ্রদ্ধাঞ্জলি তারেক রহমান ১৯ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দোয়া-স্মরণ করতে পেরেছেন; এর আগে তিনি শেষবার ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমাধি-জিয়ারত করেছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে আগমনের পর, রাজধানীর বিমান বন্দরের বাইরে বিশাল জনতার আবেগভর্তি সমর্থন লাভ করেন এবং তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মূখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। সেই দিন তিনি Evercare Hospital-এ চিকিৎসাধীন মায়ের কাছে যান এবং আবারও দলের নেতা-কর্মীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা পান।
আজ শুক্রবারের এই শ্রদ্ধাঞ্জলি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়; এটি তাঁর পারিবারিক ও আবেগগত দিকটিকেও তুলে ধরে, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন পর নিজের বাবার স্বপ্ন, আদর্শ ও বাংলাদেশের উন্নয়ন-ঐক্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
এই শুভ মুহূর্তটি সমগ্র বিএনপি, তার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের কাছে এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেটি দলীয় ঐক্য, নেতৃত্ব ও ঐতিহ্যবোধকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।



