মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নতুন সংলাপের ১৮তম দিন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সময় ধরে পাঁচ লাখ ছাত্র–শিক্ষক–অভিভাবক সম্মিলিত প্রতিবাদের ঘটনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কার মতো, সৈনিক–ক্ষমতাশীল স্বৈরাচার বিরোধী তিন রাজনৈতিক দল – সিপিবি, বাসদ ও জাসদ – তারা একযুগের মতো প্রতীকী ১০ মিনিটের ওয়াকআউট করে। অভিযোগ, আইনের প্রয়োগে শিক্ষার্থীদের, অভিভাবকদের ও নারীদের ওপর হামলা ঘটেছে—যা “ফ্যাসিস্ট শাসনের ছায়া” বলে তারা চিহ্নিত করেছে ।

23 July 2025 | Pic: Collected
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “মাইলস্টোনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ওপর হিংসা বলার পর থেকেও আমরা স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিচ্ছবি দেখছি।” তাদের কথায়, আহত ও নিহতদের তালিকা না প্রকাশ, ছয় দফার দাবিতে আন্দোলন জানানো হলেও বাধ্য হয়ে প্রতীকী প্রতিবাদে উঠে আসার প্রয়োজন পরেছে ।
প্রতিবাদের আগে শিক্ষার্থীরা মাইলস্টোন ক্যাম্পাস ও ফেডারেল সিক্রেটারিয়েটে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেছিলেন—নিষ্পত্তির প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ, প্লেন বাতিল, প্রশিক্ষণ সংস্কার ও মামলা প্রত্যাহার—যার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা প্রায় ৯ ঘণ্টা আটক ছিলেন ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—পুলিশ ও সেনাবাহিনী—ক্লাশ অবস্থানে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে আক্রমণ চালায়। টিয়ার গ্যাস ও গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গের পাশাপাশি আহতের সংখ্যা ২০–৩০–এর মত রিপোর্ট করা হয় । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কনস্যালটর প্রফেসর আলী রিয়াজ খুশি তার বক্তব্যে বলেন, প্রতীকী এই প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে গ্রহণযোগ্য, সরকারের উচিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা ।
এই সাংঘাতিক ঘটনালগ্নে কয়েকটি প্রতিবেদন এ ব্যাপারে আলোকপাত করেছে—আল জাজিরা জানায়, বিমান বিধ্বস্তে ৩১ জন নিহত, যার মধ্যে ২৫ জন শিশুবয়স্ক । রয়টার্স জানাচ্ছে, বিমানটি চীনার নির্মিত ‘এফ‑৭ বিএজিআই’ মডেল—যা মেকানিক্যাল ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়; পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম নিহত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছিল, আহতদের মধ্যে ৬৮ জন হাসপাতালে, ১০ জন অপরামর্শ্য অবস্থায় রয়েছেন ।
আরও উঠে এসেছে, মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ এক নির্দিষ্ট কমিটি গঠন করেছে যাতে আহত, নিহত ও নিখোঁজদের নাম, ঠিকানা সহ সঠিক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে
। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষার্থী–শিল্প–যুব নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।
আজকের ১০ মিনিটের ওয়াকআউটের মাধ্যমে সিপিবি–বাসদ–জাসদ একবারে না শুধু দুর্ঘটনার ন্যায় সংক্রান্ত দাহ্র্য তুলে ধরেছে, বরং বলেছে—“আমরা আর স্বৈরাচারের রাজনীতিকে গ্রহণ করব না।” প্রতীকী এই হাঁটা ছিল এদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর যৌথ নিরপেক্ষ দায়বদ্ধতার আহ্বান।



