বিএনপি নির্বাচন মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন—এমনই দৃঢ় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন **বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, এবং রবিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

20 Dec 2025 | Pic: Collected
এতে তিনি বলেন, “আমি যা বলি, তা-ই করি। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যা-ই হোক, আমি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করব।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া সত্ত্বেও জনগণের ভোট-সমর্থনে দাপট দেখাতে চান, এবং এতে নিজের পরিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও উল্লেখ করেছেন—যেখানে তার বাবা ১৯৭৩ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “বাপ স্বতন্ত্র, বেটিও স্বতন্ত্র—সময়ই বলে কপাল কেমন।” তিনি তার রাজনৈতিক জীবন ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমি সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষ—এখানকার মানুষ যা বলবে, আমি তাই করব। আমি ছিলাম, আছি এবং থাকব।”
তিনি বলেন, “দেশের ভেতরেও ষড়যন্ত্র থেমে নাই”—এমন মন্তব্য দিয়ে রумিন উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচনকে বানচাল বা বাধাগ্রস্ত করতে কিছু পক্ষ চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনকে বানচাল করতে পতিত স্বৈরাচারের লোকরা যেমন চেষ্টা করছে, ঠিক তেমনি দেশের ভেতরেও ষড়যন্ত্র থেমে নাই।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি সমালোচনা করেন যে প্রার্থীদের অস্ত্র দেওয়ার কথাকে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, এবং এটিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত দুঃসংবাদ বলে অভিহিত করেন।
রুমিন ফারহানা তার রাজনৈতিক আদর্শের উৎস হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া-কে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন “তিনি এ দেশের মানুষের পালস বোঝেন।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে জনগণই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এবং মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি ভোটারদের ইচ্ছাকেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করেন।
তিনি বলেন, “মনোনয়ন আমি কিনব না। এই মনোনয়ন আমার এলাকার ভোটারদের।” এ মন্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি দলীয় প্রক্রিয়া ও ভোটারদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এবং নিজ মনোনয়নের জন্য অর্থ-সম্ভাব্য কোন লেনদেনকে প্রত্যাখ্যান করেন। J
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন, এবং বলেছেন যে ঢাকায় ওসমান হাদির জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। তিনি বলেন, “জানি না, ওসমান হাদির পর কার নাম আছে—এই প্রশ্ন আমাদের সবাইকে নাড়া দেয়।” এই মন্তব্য বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতকে সামনে এনে বর্তমান উত্তেজনা ও জনভিত্তিক সমর্থনের কন্ডিশনগুলোর ওপর আলোকপাত করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ঘোষণা করায় নাই, এবং রুমিনসহ এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী অর্ধডজনের মতো নেতারা ছমাস আগেও মাঠে কাজ করছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গেছে।
একমাত্র দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে রুমিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে; একদিকে তাকে সমর্থন ও স্বতন্ত্র ভোটার ভিত্তির সামনে রাখার চেষ্টা দেখা যায়, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন এটি দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী কৌশলগুলোর প্রতিবিম্ব।
রুমিন ফারহানা বলেছেন যে নির্বাচনী পরিবেশে আইনি ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে নির্বাচন কমিশন সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ভোটার ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও ন্যায্যভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তিনি বলেন, “ভোটার, প্রার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।” এ মন্তব্যে স্পষ্ট রুমিনের দৃষ্টি কেবল নিজ নির্বাচনী লড়াইয়ে নয় বরং জাতীয় ভোটার নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিশ্চিত কৌশলেও গড়া।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক মঞ্চে একটি নতুন দিক তৈরি করেছে, এবং সরাইল-আশুগঞ্জে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।




