মালয়েশিয়ার নেহরি সমস্যান (Negri Sembilan) রাজ্যে অবস্থিত নিলাইয়ের এক ব্যাটারি কারখানায় বৃহস্পতিবার সকালে পরিচালিত একটি সিন্ডিকেটবিরোধী অভিযানে ১৮৪ জন অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়েছে। রাজ্য অভিবাসন বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অপারেশনটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে শুরু হয় এবং প্রায় চার ঘণ্টা চলে। অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ২০-৪৯ বছর বয়সী ১৬৩ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি, মায়ানমার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছে।
6 Nov 2025 | Pic: Collected
অভিযানে পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা বৈধ কর্ম অনুমতি (work permit) বা আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই কারখানায় কাজ করছিলেন এবং কিছুই এড়িয়ে গিয়ে ভারি যন্ত্রপাতির পেছনে লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, “অনেকেই যন্ত্রপাতির পেছনে লুকিয়ে ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই ধরা পড়েছে।”
আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে—বিশেষ করে বৈধ পরিচয়পত্র বা ভিসা ছাড়াই থাকা, সময়সীমা অতিক্রম করা ও অনুমোদনহীনভাবে কাজ করা।এই ঘটনার পর তাদের সকলকে লেঙ্গেঙ্গ অভিবাসন ডিপোতে (Lenggeng Immigration Depot) স্থানান্তর করা হয়েছে, এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশসহ এসিয়াও থেকে শ্রমিক রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বড় গন্তব্যস্থল; কিন্তু বৈধ কর্ম ভিসা ও অনুমোদনের অভাবে বহু অবস্থায় অবৈধভাবে কাজ করছে বলে বহুবার অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের অভিযানে উঠে আসে যে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ ও আশ্রয় প্রদানে স্থানীয় নিয়োগদাতাদেরও অংশ রয়েছে, যা মালয়েশিয়ার অভিবাসন নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রকম অভিযানে দুই ধরণের পাঠ পাওয়া যায়—এক দিকে বরং অবৈধ শ্রমিককে নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি, অন্য দিকে দেশীয় নিয়োগদাতাদের ভূমিকাও সন্দেহের মুখে; দেশে তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ কর্মভিত্তিক ভিসার ব্যবস্থা তৈরি না হলে অবস্থা আগেও থাকবে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই ঘটনা জরুরি সতর্কসংকেত: মালয়েশিয়ায় যারা কাজ করছেন তাদের অবশ্যই বৈধ কাগজপত্র, নিয়োগ-চুক্তি ও অবস্থান-নথি যাচাই করে নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের পরিবার ও স্থানীয় প্রতিনিধিদেরও সচেতন থাকতে হবে অবৈধ নিয়োগ, মানবপাচার ও অতিরিক্ত শ্রমিক খরচের চক্রান্ত থেকে।
এই অভিযানের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ একটি বার্তা দিয়েছে যে অবৈধ শ্রম নিয়োগ ও অনুমোদনহীন অবস্থায় কাজ করা তাদের দৃষ্টিতে tolerable হবে না; তবে এই কার্যকর নীতি বাস্তব জীবনে পুরো দক্ষতা ও মানবাধিকার বিবেচনায় কিভাবে কাজ করবে, তা সময়ই বলবে।
সূত্র ও তথ্য-বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে, ঘটনা-বিবরণ এবং পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সেন্সেক্রে রয়েছে—এই ধরনের বৃহৎ অভিযান ভবিষ্যতে অভিবাসন নীতিতে কী পরিবর্তন আনে এবং শ্রমিকদের অধিক সুরক্ষা দেয় কি না, তা নজরদারি করা জরুরি হবে।



