মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের টাম্পই ইন্দাহ এলাকায় পরিচালিত ব্যাপক অভিযানে মোট ৯২ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগ। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে শুরু হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন জোহর ইমিগ্রেশন পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস। অভিযানটি পাঁচটি ভিন্ন অপারেশন একযোগে পরিচালিত হয় — অপস সেলেরা, অপস মারি, অপস সাপু, অপস বেলান্জা এবং অপস পিন্টু। এই অভিযান মূলত এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা, সৌন্দর্য সেবা কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ এবং আবাসিক এলাকায় চালানো হয়, যেখানে অবৈধ অভিবাসী কর্মী নিয়োগ বা আশ্রয় নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। অভিযান পরিচালনার জন্য গোয়েন্দা তথ্য এবং জনসাধারণের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছে।

30 Nov 2025 | Pic: Collected
গ্রেফতারকৃত ৯২ জনের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ১৯ পুরুষ ও ৪ নারী, শ্রীলঙ্কার ৭ পুরুষ ও ২ নারী, মিয়ানমারের ১৯ পুরুষ ও ৯ নারী, বাংলাদেশের ৮ পুরুষ, পাকিস্তানের ২ পুরুষ, চীনের ১ নারী এবং ফিলিপাইনের ১ নারী রয়েছেন। এছাড়া আরও ১৫ পুরুষ ও ৫ নারী অন্যান্য দেশের নাগরিক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৫৭ বছরের মধ্যে। জোহর ইমিগ্রেশন পরিচালক মোহদ রুসদি জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন। তারা বৈধ কর্মপরমিট ছাড়াই কাজ করছিলেন, ভিজিট পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং এর ফলে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩ লঙ্ঘন করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেটিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।
এ ধরনের অভিযান মালয়েশিয়ায় নিয়মিতভাবে চালানো হচ্ছে যাতে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রশাসন আশা করছে যে, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার দিকে জনগণকে উৎসাহিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি কর্মীদের নিয়োগে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে শুধু আইনগত ঝুঁকি কমবে না, বরং শ্রম বাজারও সুসংগঠিত হবে। অভিবাসী ও স্থানীয়দের সচেতন করতে প্রশাসন নিয়মিত জনসচেতনতা কর্মসূচি চালাচ্ছে, যাতে বৈধ ভিসা ও পারমিট ছাড়া কোনো কাজ বা বসবাস না করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যারা বৈধ নথিপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ এই ধরনের অভিযানকে নিয়মিত করেছে, এবং ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে দেশব্যাপী হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তায় অভিযানগুলো আরও কার্যকর হচ্ছে, যেখানে তারা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য সরবরাহ করছেন। এই অভিযানগুলো শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং দেশের অভিবাসী নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং শ্রম বাজারকে সুষ্ঠু রাখার একটি অংশ। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যারা বৈধ কাগজপত্রসহ কাজ করতে চান তাদের জন্য কোনো সমস্যা নেই, তবে অবৈধভাবে বসবাস ও কাজ করা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা জারি থাকবে। এমনকি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে সকল প্রয়োজনীয় ভিসা, কর্মপরমিট ও কাগজপত্র নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ ও বৈধভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া এবং অভিবাসন আইন মেনে চলা দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যারা অপরাধী প্রমাণিত, তাদের ক্ষেত্রে সম্ভবত দেশে ফেরত পাঠানো বা জরিমানা জারি হতে পারে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং প্রশাসন এই বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখছে। এই রেইডের মাধ্যমে সাধারণ জনগণও সচেতন হবে এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো কাজ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে।




