বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকটি প্রায় ১২টা থেকে ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলে এবং তা একটি “উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে” অনুষ্ঠিত হয় বলে পিএনএস ও অন্যান্য সংবাদপত্রে জানানো হয়েছে।

23 Nov 2025 | Pic: Collected
সাক্ষাতে দুই দেশ একাডেমিক গুরুত্বসহ বির্তিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালান। প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল — বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, জ্বালানি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, যা উভয় পক্ষেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন এবং তাঁর জনগণের প্রতি ভুটানের জনগণের “গভীর বন্ধুত্বের বার্তা” পৌঁছে দেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল যে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী এবং বহুমুখী করার ইচ্ছা রয়েছে।
অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভুটানের সঙ্গে “জনগণ-জনগণের সম্পর্ক” আরও গভীর করার গুরুত্ব উল্লিখন করেন, যা কূটনীতিকভাবে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বকে এক নতুন মাত্রা দিতে পারে। সাক্ষাত শেষে দুই দেশের নেতারা স্মারক ছবি তোলেন এবং অতিথি বইয়ে স্বাক্ষর করেন, যা এমন একটি চিহ্ন হিসেবে দেখা হয় যে এই সফর কেবল প্রাতিষ্ঠানিক নয়, ব্যক্তি-সম্পর্ক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
এই সফরটি আসে এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশ–ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে (বিশেষ করে জ্বালানি ও পরিবেশ) জোরদার করার দিকে অব্যাহত রয়েছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় এসে সার্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতি দেন এবং দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে, এই সাক্ষাৎ শুধুমাত্র অনুষ্ঠানগত নয় — এটি একটি স্থানীয় ও রাজকীয় মহলের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী উভয়েই একমত হয়েছেন যে, আগামী সময়ে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে অগ্রগতি করবে।




