ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওসমান হাদির এক বোনকে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান দেওয়া হবে, যা তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

23 Dec 2025 | Pic: Collected
সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া, পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি সুরক্ষা প্রদান করা হবে, যাতে কোনো প্রকার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম অন্তর্ভুক্ত আছেন।
এছাড়া, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ দায়িত্ব প্রদান করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের এই উদ্যোগের মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা আন্দোলনকারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যাদের ইতোমধ্যে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে এবং অস্ত্র লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা কমাতে এবং মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, যা দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সচেতন নাগরিকদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা।
বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ও আন্দোলনমুখী পরিবারের সদস্যদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করবে, এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ও অস্ত্র লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ, যা আন্দোলন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে। ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক সহিংসতা ও হুমকির ঝুঁকি কমিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে, এবং আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সাংগঠনিক কাজ অব্যাহত রাখার সুযোগ দেবে।




