জাতিসংঘ ঘোষণা করেছে যে তারা বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা মিশনের প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট জনবলের ছাঁটাই করবে — অর্থ সংকট ও সবচেয়ে বড় দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ কমানো অবদান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। এই হিসেবে প্রায় ১৩,০০০ থেকে ১৪,০০০ জন শান্তিরক্ষা সেনা ও পুলিশ পদত্যাগ করবে বা প্রেরণ ও সরানো হবে, এবং বেশিরভাগ নাগরিক সহকারী কর্মী ও সরঞ্জামও প্রভাবিত হবে। ছাঁটাই সিদ্ধান্ত নতুন নয় — শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা আগেই করা হয়েছিল যে বাজেট সংকটে আয়োজিত জনবল হ্রাস করা হবে। এই মিশনগুলো — দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো, লেবানন, সাইপ্রাস, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, পশ্চিম সাহারা, গলান হাইটস ও আবিয়েই — এদের উপর ছাঁটাই প্রভাব ফেলতে পারে।

10 Oct 2025 | Pic: Collected
এই ছাঁটাই সিদ্ধান্তের বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। কারণ বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিরক্ষা মিশনে অবদানকারী একটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে অনেক সেনা, পুলিশের দল ও সহায়ক কর্মী পাঠায়। যদি ছাঁটাই বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশকে খালি দায়িত্ব, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মিশনে অংশগ্রহণে বাধা ভোগ করতে হবে—এটি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বড় সমস্যা হবে।
সংকটের মূল কারণ হলো অর্থের অভাব ও দাতা দেশের অনিশ্চিত অর্থায়ন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদান কমে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্র শান্তিরক্ষা বাজেট থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার কেটে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য পুরো অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা করেছে। জাতিসংঘ মহাপরিচালক আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছে, এই ধরনের ছাঁটাই “নিয়মিত মিশনের দক্ষতা, মানবাধিকার ও শান্তি কাজের কার্যকরতা” হ্রাস করতে পারে।
বাংলাদেশে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, শান্তিরক্ষা মিশন থেকে কম নিয়োগ, কম মিশন অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা হ্রাস পাবে — যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মিলিটারি সুনামকে প্রভাবিত করবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সরকারকে নতুন কৌশল এবং বাজেট পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে যাতে ছাঁটাইয়ের ক্ষতি যতটা সম্ভব কমানো যায়।




