জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার না করা যায়, তাহলে ধানের শীষও প্রতীক হিসেবে বৈধ হতে পারবে না” । তার যুক্তি ছিল, শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়, বরং জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ — যেমন ধানের শীষ, পাটপাতা ও তারকাও । তিনি ফেসবুক পোস্টে আরও বলেছেন, যদি কোনো জাতীয় প্রতীক বা তার অংশ রাজনৈতিক দলের চিহ্ন হতে পারে, তাহলে শাপলাও হওয়া উচিত। শাপলার ক্ষেত্রে আইনি বাঁধা নেই; কাঁঠাল (জাতীয় ফল) আগেই মার্কা হিসেবে রয়েছে, তাই ভয় পেয়ে কণ্ঠ বন্ধ রাখা উচিত নয় ।

10 July 2025 | Pic: Collected
এমন মন্তব্য নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ না রাখার ইসির নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এসেছে। বুধবার বিকেলে ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শাপলাকে নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না । কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এবং আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ কথা নিশ্চিত করেছেন । ইসি আদেশে বলা হয়েছে, জনপ্রিয়তা বা জাতীয় প্রতীক হওয়া স্বত্ত্বেও শাপলা দলের প্রতীকের তালিকায় রাখা যাবে না, কারণ তা নির্বাচনের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীতিগত সিদ্ধান্ত ।
নতুন নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী মোট ১১৫টি প্রতীক তালিকাভুক্ত থাকবে, যেখানে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য বরাদ্দ এবং বাকিটা নতুন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য । এ তালিকায় ধানের শীষ, পাটপাতা, তারকা সহ অন্যান্য অনেক প্রতীক রয়েছে। শাপলার অনুপস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সারজিস আলমের যুক্তির মধ্য দিয়ে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এনসিপি মনে করে নির্বাচনের প্রতীক চূড়ান্ত তালিকায় শাপলা বাদ হলে ধানের শীষেরও অবস্থান সংকটে পড়বে। কারণ, ‘ধানের শীষ’ জাতীয় প্রতীকের অপরিহার্য অংশ, যেটাও একইভাবে জাতীয় প্রতীকের অংশ হিসেবে গণ্য। সারজিস বলেন, “যদি ধানের শীষ পারছে, শাপলাও পারবে”—এই যুক্তির ভিত্তিতেই শাপলার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন।




