ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑বিডি (ICT‑BD) বুধবার (১০ জুলাই ২০২৫) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তিনি, তার যোগসাজশে তৎকালীন হোম মিনিস্টার আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ শীর্ষ কর্মকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল‑মামুন-কে একসাথে ‘crimes against humanity’ মামলা মোকাবিলা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রতিটি অভিযোগের বিশদ:
- প্রথম অভিযোগ: ১৪ জুলাই ২০২৪ গনভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ‘quota আন্দোলনকারীদের রাজার পুত্র–রাজার নাতি’ ইত্যাদি উস্কানিমূলক ভাষায় সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যের পর সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও সরকারি সম্পৃক্ততায় ধাওয়ায় ১৪০০ এর বেশি মানুষ নিহত হন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানো হয় ।
- দ্বিতীয় অভিযোগ: সশস্ত্র বাহিনী, হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে এবং শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সহায়তায় অভিযান চালানো হয় ।
- তৃতীয় অভিযোগ: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এক ছাত্র মারা যায়; রামধনু ছাত্র আবু সায়েদ কে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যায় শেখ হাসিনা ও অন্যান্যদের নাম দেওয়া হয়েছে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ।
- চতুর্থ অভিযোগ: ঢাকার চাঁখারপুল এলাকায় ৫ আগস্ট অপহরণকারী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এ সকল কর্মকাণ্ড করা হয় শেখ হাসিনা ও সরকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশে ।
- পঞ্চম অভিযোগ: ঢাকার আশুলিয়ায় সীমান্তবিহীনভাবে ছয় জনকে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়; কেউ অসুস্থ অবস্থায় গুরুতর আহত হন। অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান ও আল‑মামুনের পক্ষ থেকে এই সহিংসতার পরিকল্পনায় সরাসরি সম্পৃক্ততা আনা হয়েছে ।
এই খাদ্য-মানের পাঁচ অভিযোগের ভিত্তিতে ICT‑BD ৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিচারকগণের সামনে প্রসিকিউশন চার্জ পাঠিয়েছে, আর ৪ আগস্ট প্রথম সাক্ষীদের ওপর ভিত্তি করে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে ।
যদিও ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন নিজেই—২০০৯ সালে মুক্তিযুদ্ধের অপরাধ যাচাই করতে—এখন এই বিচারকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত’ এবং ‘kangaroo court’ বলে খণ্ডন করেছে বর্তমান আওয়ামী লীগ দল ।
তাছাড়া, ২ জুলাই ধারা লঙ্ঘনের অপর একটি মামলায় হাসিনাকে ছয় মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে— leaked এক অডিওতে তিনি দাবি করেছিলেন, “বিরোধীদের বিরুদ্ধে ২২৭ জনকে মারার অনুমতি রয়েছে”—এই অভিযোগে তার বিচার হয়েছে ।
সংক্ষিপ্তসার: শেখ হাসিনাকে দায়ের করা পাঁচটি অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করে — প্ররোচনা, হত্যার নির্দেশ, দুষ্টাচার, তাড়না, অসহায় নিরস্তদের ওপর নিহত ও সংঘাত—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অস্পষ্টতা ও রাজনৈতিক আবর্তনের কারণে এই মামলাটি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনী ও বিচার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




