সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সোমবার (১২ মে) দুপুরে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে ওই সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Source: Ittefaq | 12 May 2025 | Pic: Collected
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিবেদন দাখিলের পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।
এই মামলায় প্রথমে শুধু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলেও পরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, গুম, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এই মামলার তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে ২৪ জুন পর্যন্ত করা হয়। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দিতে সক্ষম হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলাটি ছাড়াও আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগ শাসনামলের সাড়ে ১৫ বছরে গুম ও খুনের ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অপর মামলাটি ২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম মামলাটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। এই মামলায় পরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও আসামি করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের দাখিলের সময় এ পর্যন্ত তিনবার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করে প্রসিকিউশন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল সময় দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ২৪ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত সাড়া দেয়নি ভারত।
এই মামলার তদন্ত শেষ হওয়ায় এখন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহল এই বিচার প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে।




