বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন যে ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচন “অতো সহজ হবে না” এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে যা নির্বাচন প্রক্রিয়া কঠিন করে তুলতে পারে, এই মন্তব্য তিনি শনিবার (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে করেন, তিনি বলেন যে আগেই আমি বলেছিলাম—নির্বাচন সহজ হবে না এবং এখন সেই ভবিষ্যদ্বাণী ধীরে ধীরে সত্য হচ্ছে কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নির্বাচনী পরিস্থিতি ও হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে যে শুধু ভোটের দিন এসে ভোট দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না, বরং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাহিনীর ষড়যন্ত্র চলছে ও রাজনৈতিক সহিংসতার ছড়াছড়ি হচ্ছে যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করছে ।

13 Dec 2025 | Pic: Collected
তারেক রহমান বিশেষ করে উল্লেখ করেন যে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে, এবং এইসব ঘটনার মাধ্যমে কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তিনি বলেন “গত কয়েক দিনের ঘটনা ও গতকালকের ঘটনা, এসব প্রমাণ করছে যে যা আমি বলছিলাম তা আস্তে আস্তে সত্য হচ্ছে” । তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি, কারণ যদি দল ও সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ না হয় তাহলে “দেশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে” এবং কেউ লাভবান হতে পারে ।
তারেক রহমান বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয় বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের ওপর এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছেন, তিনি বলেন যে “ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থেমে যাবে না এবং তা আরও খারাপ হতে পারে” এবং নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে ভয় পেয়ে থাকলে চলবে না, বরং সবাইকে সাহসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে আসতে হবে । তিনি বলেন, “যত আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো, যত সামনে এগিয়ে আসবো, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে; এই পরিস্থিতি যত তৈরি করবো, ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে” ।
এই বক্তৃতায় তারেক তিনি আরও বলেন যে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক করা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং বিএনপি-এর নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে যে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ তাদের হাতে নির্ভর করে; তিনি বলেন “এখন আমাদের সময় এসেছে আমি কী পেলাম এটা বাদ দিয়ে, আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম সেই দিকটি দেখি, আজ যদি আপনি দেশ ও জাতির জন্য কিছু করেন তাহলে আগামীতে আপনার সন্তান, নাতি-পুতিরা ভালো থাকবে এবং দেশের সাধারণ মানুষও শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনে জীবন যাপন করতে পারবে” ।
তারেক রহমান তার বক্তৃতায় দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও প্রণীত পরিকল্পনার কথাও সংক্ষেপে তুলে ধরেন এবং বলেন যে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব; তিনি বলেন যে যারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তাদের পেছনের উদ্দেশ্য দেশকে পিছিয়ে দেওয়া এবং জনগণের ভোটাধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা, এটা প্রতিরোধ করার জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই, দয়া করে আসুন এই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে, এই যুদ্ধে জেতার সবচেয়ে বড় সহযোগী হবেন বাংলাদেশের জনগণ, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে জিততে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই, দেখা হবে যুদ্ধের মাঠে, দেখা হবে সংগ্রামের মাঠে, দেখা হবে আপনাদের সাথে ভোটের ময়দানে” এবং সুতরাং শুধু ভীতি নয়, কর্মসূচি এবং গণমনোবল শক্ত রাখতে হবে ।
বিএনপি-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই কর্মশালায় বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন যে তারেক রহমানকে গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তিনি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে একটি নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে, যা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণতান্ত্রিক শক্তিকে আরো সংগঠিত করতে সাহায্য করবে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন এই ধরনের বক্তব্য দেশের স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজিত করে তুলতে পারে, বিশেষ করে যখন নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং tফসিল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের প্রস্তুতি নিয়েছে, তবে আলাদা বিপদ ও সংঘর্ষ এড়াতে সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করা উচিত, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে সভা, জানাজা বা প্রচারণা-সম্পর্কিত সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করতে পারে এবং সকল পক্ষকে শান্ত ও আইনের মধ্যেই কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সুতরাং, তারেক রহমানের এই মন্তব্য শুধু এক ব্যক্তির বক্তব্য নয় বরং একটি দলীয় রাজনৈতিক মেসেজ, যা নির্বাচনের পরিবেশ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণের মনোবলকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং রাজনৈতিক দলগুলোর চূড়ান্ত সমন্বয় ও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে, এমন একটি সময়ে যখন বাংলাদেশের রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভোটের মতো মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দেশের ভবিষ্যৎকে গড়ে তুলবে ।




