১৭ অক্টোবর, শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট। জনগণের কাছে সংস্কার ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার হিসেবে এই সনদ প্রকাশিত হয়। তবে এখন প্রশ্ন উঠেছে — এই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে?
সনদে স্বাক্ষর করার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনীতির মাঠে একটি সাংবিধানিক ও সামাজিক চুক্তি প্রতিষ্ঠা করা। সনদের কিছু বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, বিশেষ করে বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং আইনি ভিত্তি নিয়ে।

17 Oct 2025 | Pic: Collected
একজন সূত্র জানায়, যদি আগে থেকেই বাস্তবায়ন পথ নির্ধারণ করা হতো, অনেক দল সনদে স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকত। তাই বাস্তবায়ন সিদ্ধান্ত কেন্দ্র ও সরকার এর ওপর রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তারা বলেছে, সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আনার কথাও ভাবা হচ্ছে — যাতে সাধারণ জনমত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নায়। সব দল ঐ অনুষঙ্গে একমত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু গণভোট নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি — কবে হবে, কীভাবে হবে, কোন বিষয় থাকবে — এসব আজও চূড়ান্ত হয়নি। আবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট করার সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান মিশ্র। বিএনপি ও জামায়াত সনদে স্বাক্ষর করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকেছে। তারা বলেছে, আইনি ভিত্তি না থাকলে কেবল সামাজিক চুক্তি হবে, যা সহজেই ভঙ্গ হতে পারে। জামায়াত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাবে — তবে ন-হতে পারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অপেক্ষা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হবে।” তিনি আরো যোগ করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের নতুন রাস্তা তৈরি হবে।”
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সনদে শুধু স্বাক্ষর করলেই হবে না — বাস্তব কাজ ও আইনগত গঠন আবশ্যক। অনেকেই দেখছেন, যদি প্রধান দলগুলো অংশ না নেয় বা আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকে, তাহলে সনদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
অন্য এক মন্তব্যে, বিএনপির ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, “সনদে স্বাক্ষর বা না স্বাক্ষর — যেকোনো দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”
সরণীণে বলা যেতে পারে: জুলাই সনদ হয়েছে চুক্তি, বাস্তবায়ন হবে চ্যালেঞ্জ, আইনি গঠন ও জনমতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।




