২৮ জুলাই ২০২৫ — আজ ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত Tracey Ann Jacobson-এর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানান, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে সরকারের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’। এ প্রত্যয় তিনি শ্রম ও নিরাপত্তার পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি আলোচনার প্রেক্ষিতে ব্যক্ত করেন।

28 July 2025 | Pic: Collected
এ ব্যাপারে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “ড. ইউনূস স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন—এই সরকার সন্ত্রাসীদের কোনো রকম সহনশীলতা দেখাবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাবই নীতি।” বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ, বাংলাদেশের কাউন্টার-টেরোরিজম উদ্যোগ, জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতি ও ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ নিয়ে আলোচনা হয় ।
প্রেস সচিব আরও জানান যে, বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধি দল আজই যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দিয়েছে। তারা ট্যারিফ সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেবে। এর সঙ্গে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও রয়েছে—তবে তারা আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন না । আলম জানিয়েছেন, এই আলোচনা সম্পর্কিত আলোচনাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তারা।
তাছাড়া, নির্বাচনী নিরাপত্তার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে:
- সেপ্টেম্বর থেকে ১৫০,০০০ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচন কাজে ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত করা হবে।
- নির্বাচনী সময় ৬০,০০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাদের মহাদণ্ডতান্ত্রিক ক্ষমতা থাকবে অতি প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।
- ডিসইনফরমেশন মোকাবিলায় একটি ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে, যাতে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি প্রতিহত করার উদ্যোগ নেওয়া যায়।
- হোম মন্ত্রণালয় ও পুলিশ নিয়ন্ত্রিত একটি মিডিয়া সেন্টার প্রতিদিন পরিস্থিতি আপডেট করবে জেনারেল জনগণকে থেসহজানে সাংবাদিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে।
- প্রাথমিক বাছাই ও তথ্য বিশ্লেষণের জন্য আইনি ও গোয়েন্দা বিভাগীয় সমন্বয় কার্যকর করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের আগেভাগে কোনো ঝুঁকি-স্থল চিহ্নিত করা যায়।
এই ঘোষণাগুলো উন্নয়নমুখী নীতি ও নিরাপত্তা নির্ভরবাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ড. ইউনূসের প্রেস সচিবের বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দেশজুড়ে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা রোধে সরকার দৃঢ়ত সঙ্গে কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সন্ত্রাসরোধ নীতিতে সমর্থন জানিয়েছে। US Chargé d’Affaires Jacobson ড. ইউনূসের পরিকল্পনার প্রতি সহানুভূতিশীলতা প্রকাশ ও বস্তুত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহযোগিতা প্রত্যয় করেন।




