সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র —যা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ-বিদেশি পর্যটনপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের এক স্বর্গরাজ্য—এখন নিয়ন্ত্রিত পাথর লুট ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। বছর খানেক আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই লুটপাট নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে, এবং এলাকাটি ‘পাথরহীন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রতিবেশীরা “বিরানক্ষেত” বা “মরুভূমির মতো” আখ্যায়িত করছেন ।

12 August 2025 | Pic: Collected
পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অজানা মতে, বিড়ম্বনাপূর্ণ এক বছরে অন্তত ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে, যার বাজারমূল্য পিছিয়েছে ২০০ কোটি টাকা । ফোলোআপ যাচাইতে দেখা গেছে, ধলাই নদীর উৎসমুখ থেকে শত শত নৌকা পাথরবোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে। স্পটের বাম পাশের বিশাল বড় পাথর ইতিমধ্যে গায়েব, কিছু জায়গা ক্ষয়প্রাপ্ত, অন্যত্র উচ্চ বালুচর আর যত্রতত্র খোড়া-খুঁড়ির চিহ্ন।
তালচাঁদা বিজিবির চারটি ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও—যেটা ছিল প্রশাসনের প্রথম পর্যায়ের নিরাপত্তা গ্যারান্টি—পাথরখেকোরা নির্বিঘ্নেই লুট চালাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান “প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্র” ছাড়া আর কিছুই নয় বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন। ইতোমধ্যে ১৫টি মামলা দায়ের এবং ৭০ জন গ্রেফতার হলেও, অভিযান চালালেও তা সাময়িক—পরপর মুখ থুবড়ে পড়ে লুটপাট আবার শুরু হয়।
চামড়াটা আরও আলোচনার দাবি করে, স্থানীয় বিএনপির একজন নেতার—সাবাব উদ্দিন—বিরুদ্ধে পাথর লুটে সরাসরি দায় থাকা উচ্চারনের ফলে তাঁর পদ স্থগিত করা হয়েছে।
সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের তৎপরতা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ—তারা এসে “উদাসীনতাবশত” কিছু অভিযান চালালেও, ভ্যানিশিং সাদা পাথরের এই পরিণতি রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি ।
বিপণন ও পর্যটনে দীর্ঘমেয়াদে নাৎসার্জন করা একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সুরক্ষার জন্য বিশাল ও সমন্বিত অভিযানের প্রয়োজন, এমনটাই মনে করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ; অথচ সাদাপাথর এখন দ্রুত বিলাপের পথে পৌঁছেছে, পর্যটকদের হতাশার কারণ হয়ে।
পর্যটন ও প্রকৃতি উভয়ের জন্য এটি ক্ষতির মুহূর্ত—প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন অর্থনীতির সংহত মেলবন্ধন ভেঙে যাওয়ায় এ সংকট সময়ের দাবি একটি সচেতন ও বলিষ্ঠ সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক উদ্যোগ।



