সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ–র বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি গুমরাহ করা অভিযোগ উঠেছে; অভিযোগ হলো, রাজধানীর নিকুঞ্জ-১ এলাকায় তার ব্যক্তিগত স্বার্থে সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ প্রায় ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ বা ব্যয় হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থ নিগ্রহ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
7 Dec 2025 | Pic: Collected
সুনির্দিষ্টভাবে, অভিযোগ অনুযায়ী নিকুঞ্জ-১-এ লেকড্রাইভ রোডের ৬ নম্বর প্লটে থাকা তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়িটির আশপাশে রাস্তায় হাঁটার জন্য বাঁধা, খাল সংলগ্ন ল্যাম্পপোস্ট, নান্দনিক ডেক, ঝুলন্ত ব্রিজ ও অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ করা হয়।এ ধরনের ব্যয় এবং উন্নয়ন কাজ সামাজিক বা সামষ্টিক নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিষ্ঠানগতভাবে করা হয়েছে, এমনটাই বলা হচ্ছে অভিযোগপ্রত্রে।
সোমবার (৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং গঠনমূলক তদন্ত শুরু করেছে। দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আaktadır হোসেন জানিয়েছেন যে, অভিযোগ যেই ব্যক্তির—তার পরিচয় বা পদমর্যাদা অনুযায়ী তদন্ত নয়; মূল হলো অভিযোগের বস্তুনিষ্ঠতা। তদন্ত ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগ উঠে এসেছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা (২৪ কোটি = ২৪০ মিলিয়ন টাকা) রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতির কথা। এটি ওই ডিজাইন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের জন্য ব্যয় হয়েছে — যা কিনা সাধারণ নাগরিকদের জন্য নয়, বরং একেবারেই ব্যক্তিগত বাড়ির জন্য ছিল।অভিযোগ ভারি — শুধু শুধু সাজসজ্জা নয়, এই অর্থের মধ্যে হয়তো অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়েও হস্ত থাকতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং সমাজ সচেতন জনগণ বলছে — যদি এমন জালিয়াতি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি একটি উল্লেখযোগ্য দুর্নীতি কাণ্ড হবে, যাকে শুধুই ব্যক্তিগত গঠন গ্রহণ হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের বিশ্বাস ও কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতার বিপরীত।
এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়ে কারণ — ইতিহাসে খুব কমই এমন ঘটনা দেখা গেছে, যেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতি-অভিযোগ এবং অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুদক এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমন ধরনের উদ্যোগ, বিশেষ করে যখন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা এবং আস্থা ফিরে আনতে পারে।
অপর দিকে, অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণ এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, শুধু সংবাদ বা অভিযোগেই তো কেউ দোষী নয়; সঠিকভাবে সব দিক খতিয়ে না দেখলে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তদন্তের সময় রয়েছে, এবং তদন্ত অফিস ও আদালত যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করেন, তাহলে সত্য মেলানো যাবে।
এই ঘটনা এখন সামাজিক ও মিডিয়া বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। অনেকেই এসেছেন যারা বলছেন — দেহী নয়, দৃষ্টান্ত হওয়া জরুরি; যাতে ভবিষ্যতে কোনো আরেক প্রভাবশালী ব্যক্তি উৎসাহ পেয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ বা ক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারে।
অন্যদের কথায়, এমন তদন্ত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া হলে সাধারণ জনগণের মধ্যে আদালত ও সংস্থার প্রতি বিশ্বাস বাড়বে। আর যদি ভিন্ন ঘটনার মতো ঘটনা চাপা পড়ে যায়, তাহলে দেশের স্বচ্ছতা ও ন্যায় প্রতিকারের ওপর প্রশ্ন থেকেই যাবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে — তদন্ত কখন শেষ হবে, আদালতে কি অভিযোগ গঠন করা হবে, এবং সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কি না। দুদক বলেছে, কাজ চলছে এবং তারা “অভিযোগের বস্তুনিষ্ঠতা” যাচাই করবে। এর পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। Daily Sun+2New Age+2
এই মুহূর্তে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বা প্রকাশিত হয়নি। তার আইনজীবী বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মিডিয়ায় পাওয়া যায়নি।
সংক্ষেপে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ — বিশ্বের বা দেশের ইতিহাসে যতই ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে স্মরণীয় হন না কেন — এই অভিযোগ এবং অনুসন্ধান এখন তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার একটি বড় পরীক্ষা।
যদি প্রমাণ সঠিকভাবে উঠে আসে, তাহলে এটি হবে একটি মাইলস্টোন মামলা — দেখাবে যে বাংলাদেশের বড় যে কোনো ব্যক্তিই, তারো বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ সম্ভব। অন্যথায়, যদি প্রমাণ পাওয়া না যায়, তাহলে এটি হবে শুধু একটি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ।
এই মুহূর্তে, তদন্ত কাজ চলমান; সময় বলবে কে সত্যি, কে মিথ্যা।



