সোমবার (১৭ নভেম্বর ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ একটি চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেছে — সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় দিয়েছেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল, যার অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

17 Nov 2025 | Pic: Collected
রায় পাঠ করা হয় প্রায় ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় ধরে, এবং শেষ ঘোষণা করা হয় দুপুর ২:৫০‑এ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলায় পলাতক অবস্থায় রয়েছেন শেখ হাসিনা এবং কামাল, যারা ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, এই মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন কারাগারে রয়েছেন — তিনি ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী (state witness) হয়েছেন।
এই মামলায় প্রসিকিউশন (দোষ প্রমাণকারী পক্ষ) দৃঢ় দাবি করেছিল যে, কামাল ও হাসিনা উভয়েই সর্বোচ্চ শাস্তি — মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, তারা শুধু রাজনৈतिक ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না — তারা সিদ্ধান্তগ্রহণকারী শীর্ষে ছিলেন, “কমান্ড তালিকা”তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অবস্থান করছিলেন, এবং আদেশ দিয়েছিলেন গুলি ব্যবহারের এবং সহিংস দমন নীতিতে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে মোট পাঁচটি অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই, গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য।
- আসামি হিসেবে সরকারের নির্দেশে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন করার নির্দেশ।
- রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র (আবু সাঈদ) গুলি করে হত্যার নির্দেশ।
- ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় জন আন্দোলনকারীকে গুলি করার নির্দেশ।
- আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর নির্দেশ।
ট্রাইব্যুনালের রায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই সব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং রাজনৈ কভাবে পরিচালিত নির্দেশানুযায়ী সংঘটিত হয়েছিল।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে — কামাল এবং হাসিনার আপিলের ক্ষেত্রে একটি শর্তাধীন বাধ্যবাধকতা রয়েছে: তাদের “আত্মসমর্পণ” বাধ্যতামূলক। কারণ তারা বর্তমানে পলাতক অবস্থায় আছেন, তারা আদালতে নিজে উপস্থিত না হলে আপিল প্রক্রিয়া কার্যকর নাও হতে পারে।
এই রায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বৃহত্তর প্রভাব ফেলে দিতে পারে। একদিকে, এটি ট্রাইব্যুনালের সংকল্প ও ক্ষমতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে, অন্য দিকে, এটি রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও তীব্র করতে পারে, বিশেষ করে কারণ ঘটনাগুলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত ছিল — একটি সময় যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই বিতর্ক ও উত্তেজনার কেন্দ্র ছিল।
এছাড়া, কিছু বিশ্লেষক এই রায়কে বিচার ও রাজনৈতিক কার্যকলাপের মিশ্রন হিসেবে দেখছেন — অর্থাৎ, বিচার প্রক্রিয়া শুধুমাত্র আইনগত মাত্রায় সীমাবদ্ধ নয়, রাজনৈতিক পুনরায় বিন্যাসের একটি অংশও হতে পারে।
সার্বিকভাবে, আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের আইন‑রাজনীতি পরিপ্রেক্ষিতে একটি মাইলফলক, যা আগামী সময়ে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে রূপান্তর করতে পারে।




