বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব মাহবুব আলী জাকি-র জানাজা অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা কাঁদতে দেখা গেছে, যখন তারা শেষবারের মতো প্রিয় সহকারী কোচকে শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত হয়েছেন। এই আবেগঘন ঘটনাটি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে খেলাধুলা-জগতের পাশাপাশি সাধারণ শ্রোতারা ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
28 Dec 2025 | Pic: Collected
মাহবুব আলী জাকি, যিনি ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ ছিলেন এবং বহু তরুণ পেস বোলারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, বিপিএলের ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করেন। তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে নেওয়া হলে পথেই মারা যান; পরে তাঁর জানাজা সিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উদ্বিগ্ন শোকে ক্রিকেট পরিবার ও সমর্থকরা ভিড়ে ভরে ওঠে।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বিভিন্ন দলের ক্রিকেটার, কোচ, কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং হাজার হাজার দর্শক। পেসার শরিফুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহিমকে কান্না ভেজা চোখে দেখতে পাওয়া যায় যখন তারা শেষবারের মতো জাকিরের মরদেহের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের পাশাপাশি তালহা জুবায়ের, হান্নান সরকার, খালেদ মাহমুদ সুজন ও রাজিন সালেহও গভীর শোকাহত ছিলেন।
শরিফুল ও মুশফিকুর মতো অবসরপ্রাপ্ত এবং সক্রিয় ক্রিকেটাররা তাঁকে কাঁদতে দেখা গেছে — যা শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে জাকিরের প্রতি তাদের গভীর সম্মান ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই আবেগঘন দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে, যেখানে সেবার প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হচ্ছে।
মাহবুব আলী জাকি ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর সিলেটে বিপিএল ম্যাচের ওয়র্ম-আপ সেশনে অসুস্থ হন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি। তিনি ৫৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন।
জাকি আগে একজন বোলার হিসেবে খেলেছেন এবং পরবর্তীতে কোচিংয়ে মনোনিবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)-এর উচ্চ পারফরম্যান্স কোচিং প্যানেলে ছিলেন এবং বিশেষ করে পেস বোলিং উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর কোচ হিসেবে কাজ করা খেলোয়াড়দের মধ্যে জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ক্রিকেটাররা রয়েছেন।
তিনি ২০১৬ সালে তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন শোধন-এ কাজ করেছেন এবং ছিলেন ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের কোচিং স্টাফ, যা বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের মনোবল ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
জাকিরের আকস্মিক প্রয়াণটি শুধু ঢাকা ক্যাপিটালস দলেই নয়, পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট পরিবারে বিশাল শূণ্যতা ও শোকের অধ্যায় তৈরি করেছে। বিপিএলের ম্যাচটি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হলেও, ম্যাচের ফল ও উচ্ছ্বাস প্রশংসার মতো নয় — সব পক্ষই জাকিরের অনুপস্থিতির নীরবতা ও স্মৃতিতে মোড়ানো।
জাকির একজন মেন্টর হিসেবে কালজয়ী পরিচিত। তাঁর কোচিং স্পর্শে অনেক পেস বোলার জাতীয় দলের দাগ কেটেছে এবং তাঁরা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সাফল্য পেয়েছেন। এই কারণে তাঁর প্রয়াণ শুধু ব্যক্তিগত বন্ধু বা সহকর্মীর মৃত্যু নয় — বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট ধারায় এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
জানাজার আগে বিসিবি সভাপতি বুলবুল বলেন, “জাকির আমাদের ক্রিকেট পরিবারে এক মূল্যবান ব্যক্তি ছিলেন, যিনি সংস্কৃতি, সততা ও নিষ্ঠাভাবে ক্রিকেটকে ভালোবাসতেন।” তিনি কোচ জাকিরের জন্য বিশেষ দোয়া ও শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন তার অবদান বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় থাকবে।
অনুষ্ঠানে সব দলের শীর্ষ খেলোয়াড় একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান, এবং ম্যাচ শেষে জয় উৎসর্গ করা হয়েছিল জাকিরকে — যা তাঁকে শ্রদ্ধার আরেক নিদর্শন।



