ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে আহত করার ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে যে মূল সন্দেহভাজন ব্যক্তি/হামলাকারী একজন বাংলাদেশিকে সন্দেহ করা হলেও তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, এবং এ ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে তাঁর অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেছে, কেননা এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি সংগ্রহের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির ভারতে অবস্থান-সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে, যদিও পুলিশ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানানো হয়েছে যে ভারতীয় সীমান্ত এলাকা ও সংশ্লিষ্ট ঘুরে দেখা যায় যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি একাধিকবার সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে এবং সে বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ট্র্যাকিং ও ফোন কল লগ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, তবে এটি প্রাথমিক তদন্তেই উঠে আসা তথ্য এবং এখনও নিশ্চিত হওয়া কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন যে এই হামলাকারী এক ব্যক্তি নয়, অন্তত দুই-তিন জনের একটি গ্রুপের সহযোগিতায় চলাচল করছে এবং তারা ঘটনার পর দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছে — এই খবর পাওয়া মাত্রই বাংলাদেশি তদন্ত দল সীমান্তবর্তী স্থানগুলোতে নজরদারি জোরদার করছে এবং ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছে।

14 Dec 2025 | Pic: Collected
ঘটনাস্থল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকালে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় হাদির ওপর অনির্দিষ্ট সংখ্যক বন্দুকধারী মোটরসাইকেল যোগে ঘাতক আক্রমণ চালায়, বদমাশেরা লক্ষ্য করলে গুলি চালান এবং হাদির বাম কানের নিচে একটি গুলি লেগে সে গুরুতর আহত হন, পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়, চিকিৎসকরা বলেন তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল এবং তাকে অন্তত চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে, এই তথ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু প্রাথমিক প্রমাণ যেমন ব্যবহৃত বন্দুকের খুলি, মোটরসাইকেলের কিছু অংশ, এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি এখন পুলিশি তদন্তে গুরুত্ব সহকারে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আইনি দিক দিয়ে তদন্ত তীব্রভাবে চলমান রয়েছে, পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান যে এই হামলা শুধু ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয় বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে এবং তাই পলাতক সন্দেহভাজন ও তার সহযোদ্ধাদের খোঁজে বিশাল অপারেশন চলছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা মহলের মধ্যে ধারণা হচ্ছে যে এই হামলাকারীরা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল এবং টার্গেট ছিল হাদি, যদিও এখন পর্যন্ত এটি সরাসরি প্রমাণিত হয়নি তবে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং এবং টিমভিত্তিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি যাচাই করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায় যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সীমানা এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি/গ্রুপের গতিবিধি ছবিগুলি পাওয়া গেছে তবে তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়, এবং এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়ানো হয়েছে যাতে পলাতকদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা যায়।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং অনেক নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতারা এই হামলাটিকে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংগঠিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কিছু নেতার বক্তব্য যে হাদির নিরাপত্তা আগে থেকে যথাযথভাবে জোরদার করা হয়নি এবং তার ওপর হামলার পিছনে একটি বড় চক্রান্ত রয়েছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিরা দাবি করছেন এটি একটি অপরাধমূলক ঘটনা এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া একজন পলাতক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা কঠিন হবে না, এবং তারা ইতোমধ্যেই ইন্টারপোল নোটিশ, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং, ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ ও সীমান্তে স্থাপিত বিভিন্ন নজরদারি ক্যামেরা ফুটেজের সাহায্যে কার্যক্রম জোরদার করেছে, এই ঘটনাটি রাজনৈতিক কর্মসূচি, পথসভা বা মিছিলের মতো একটি সময়ে ঘটার কারণে বিশেষভাবে নজর কাড়া এবং নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে সহিংসতার নতুন দিক তুলে ধরেছে।
বর্তমানে ডিএমপি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে যে তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান, যোগাযোগ, গতিবিধি ও যোগাযোগ লিংকগুলো যাচাই করছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য ক্রস-চেকিং করছে, তথ্য বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে যাতে পাকিস্তান বা অন্য কোনো দেশেও তাদের সহযোগী আছে কি-না তা নিরূপণ করা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন সংকল্পবদ্ধভাবে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যেই রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, সীমান্ত পয়েন্ট ও গন্তব্য স্পটগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে, যাতে পলাতকরা আর কোন স্থানান্তর করতে না পারে এবং দ্রুত ধরা যায়।
এই হামলার পেছনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এটি নির্বাচনী ভূমিকায় সহিংসতার একটি প্রমাণ হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যখন দেশের একটি বড় রাজনৈতিক আসন নির্বাচন সামনে রেখে সক্রিয়, তখন এমন সহিংস ঘটনা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এখনো চলছে এবং দেখা যাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগের পর্যবেক্ষকগণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা মোতায়েনসহ তদন্তে অংশ নিচ্ছে, এবং তারা আশা করছে খুব শীঘ্রই এই পলাতক হানাদারের রহস্য উন্মোচন ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে, যাতে *অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।




