বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের (SEARO) পরিচালক ড. সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ জুলাই এই সিদ্ধান্তের কথা সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন।

12 July 2025 | Pic: Collected
ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, WHO-এর সহকারী মহাপরিচালক ড. ক্যাথারিনা বোহেম পুতুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং আগামী ১৫ জুলাই নয়াদিল্লিস্থ SEARO অফিসে যোগ দেবেন । উল্লেখ্য, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সায়মার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি WHO-এর আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হওয়ার সময় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত ভুয়া তথ্য প্রদান করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনারারি পদে থাকার মিথ্যা দাবি করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। এছাড়া, সায়মা ওয়াজেদ ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেন, যার ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট কোনো হিসাব নেই।
এইসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে এবং জানা গেছে, তার পক্ষে এখন WHO-SEARO অঞ্চলের দেশগুলোতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে WHO-SEARO এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু শুরু থেকেই তার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ আছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন, তার কন্যা সায়মার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন। সায়মার বিরুদ্ধে ওঠা এইসব গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে WHO কর্তৃপক্ষ তার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যদিও সংস্থাটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।




