১৬ জুলাই বুধবার গোপালগঞ্জ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সভা ঘিরে সংঘর্ষ বাধে, যেখানে অন্তত চারজন নিহত ও প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, স্থানীয় হাসপাতাল ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতরা হলেন দীপ্ত সাহা (২৫), রমজান কাজী (১৮), সোহেল মোল্লা (৪১) ও ইমন (২৪) ।

16 July 2025 | Pic: Collected
ঘটনা শুরু হয় দুপুরের দিকে, যখন এনসিপির গাড়িবহর সভা শেষে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের লঞ্চঘাট এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় আওয়ামী লীগ ও ছাত্র-যুবলীগের কিছু কর্মী তাদের উদ্দেশে হামলা চালায়। গুলির পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর ও হামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনা মোকাবেলায় বাধ্য হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাজা কারফিউ ঘোষণা করা হয়, সন্ধ্যা ৮টা থেকে পরবর্তী দিনের সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ।
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সুপারিন্টেনডেন্ট জীবিতেশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, তিনজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছে মৃত্যুবরণ করেন; পরবর্তী সময়ে আরও এক ভুক্তভোগী মারা যান। এছাড়াও ৯ জন গুলিবিদ্ধ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, অবস্থা গুরুতর তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয় ।
নবগঠিত এনসিপি জানিয়েছে, তারা এই র্যালিকে শান্তিপূর্ণ একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আয়োজিত করেছিল, যা ছিল “জুলাই মাসের উত্তোলন”–এর বার্ষিক স্মারক কর্মসূচি। কিন্তু স্থানীয় জোটবদ্ধ একটি হুমকি ও হামলা ক্লিনটন ব্যাংকেটের রূপ নেয়, যেখানে কারও রোষে সহিষ্ণুতা দেখা যায়নি । স্বাস্থ্য, পুলিশ ও সাংবাদিকদেরও আহত হয়, যা রাজনৈতিক অত্যাচারের একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ও এর ছাত্র সংগঠনগুলো এনসিপির শোভাযাত্রাকে বাধা দিয়ে হামলা চালায়, যার ফলে অভিযোগকারীরা বলেন “শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা করা হলো, যা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অধিকারের উপর আঁচুর মেরে দিয়েছে”। এ ঘটনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে Section 144 নিষেধাজ্ঞা আসন্ন ঘোষণা করা হয়, পাশাপাশি কারফিউ জারি করে প্রশাসন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, গোপালগঞ্জের এই সংঘর্ষ বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি খাঁটি প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ হওয়ায়—শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুস্থান হওয়ায় এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ঘাঁটি—এই আঞ্চলিক সংঘর্ষ জাতীয় রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও উস্কে দিয়েছে।



