প্রাক্তন কানাডা প্রধানমন্ত্রী Justin Trudeau ব্যক্তিগত জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন—এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি ও জনপ্রিয় পপ তারকা Katy Perry-র মাঝের শান্ত প্রীতি সম্পর্ক। মিডিয়া সূত্র বলছে, জুলাই মাসে মন্ট্রিয়ালে প্রথমবার মিলে সক্রিয় দাওয়াতে উপস্থিত হয়েছিলেন তারা, এরপর সান্তা বারবারার উপকূলে ইয়টে একসাথে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ইতিমধ্যেই ২৫ অক্টোবর পারিসে ক্যাবারে “ক্রেইজি হর্স” অনুষ্ঠানে একসাথে হাত ধরে বেরিয়ে আসার ছবিও মোটা ক্রমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা মিডিয়াতে দুই-জনের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক ভাবেই নির্দেশ করছে।

27 Oct 2025 | Pic: Collected
এই নতুন সম্পর্কের শুরুটা অবশ্য বেশ ঘন ছিল না—সূত্র বলছে, ক্যাটি প্রথমে ডেটিং-মুডে ছিলেন না, কারণ তাঁর সম্প্রতি বিয়ে ভেঙেছে; আর ট্রুডোও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পর জীবনে নতুন ধাপ খুঁজছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে “ইজি কানেকশন” রয়েছে বলে ইনসাইডারদের মতে, এবং তারা একে-অপরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত তারা কোনো ঘনিষ্ঠ বিবৃতি দেননি।
ট্রুডো-পেরি-র এই সম্পর্ক শুধু সেলিব্রিটি গসিপ নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচনায় রয়েছে। যেমন, ট্রুডো ২০২৩ সালে তাঁর স্ত্রী Sophie Grégoire‑Trudeau থেকে আলাদা হয়েছেন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। অন্যদিকে, পেরি তাঁর দীর্ঘদিনের সগ্য Orlando Bloom থেকে ওই বছরের জুন-জুলাই মাসে বিচ্ছেদ করেছেন। এই দুই জনের ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তন সম্ভবত তাদের কাছে এক অপরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গা বদলের কারণ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্পর্কের রাজনৈতিক প্রভাবও থাকতে পারে। কারণ, ট্রুডো কোনো এখনো রাজনৈতিক পদে নেই—তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন জনসাধারণের নজরে আসে, এবং সেলিব্রিটি-রাজনীতিকারদের জীবনে ব্যক্তিগত বিষয় কীভাবে মিডিয়ায় প্রতিফলিত হয়, তা নতুন আলোচনার বিষয়। এদিকে পেরি-র মতো অত্যন্ত জননন্দিত সেলিব্রিটি একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে থাকলে মিডিয়ার চাপও বাড়বে।
তবে অনেক ভক্ত এবং মিডিয়া পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই সম্পর্ক শান্ত ও ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এক ইনসাইডার বলেছেন, “ক্যাটি এতে খুব আগ্রহী; তারা অনেক ব্যক্তিগত সময় একসাথে কাটাচ্ছেন, কিন্তু এখনো ঘোরাঘুরি বা ঘোষণা-ধর্মী কিছু করছেন না।” ELLE
এই তথ্যগুলো আলোচনা-স্তরে থাকলেও—স্বয়ং ট্রুডো বা পেরি কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি দেইনি—তবে তাদের চলাফেরা এবং পাবলিক উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যাঁরা “প্রধানমন্ত্রীর প্রেমে নতুন অধ্যায়” হিসেবে বিশ্ববাসীর নজরে আসছেন, তাঁদের ব্যক্তিগত নির্বাচন নিয়ে অনেক রকম সামাজিক ও মিডিয়া বিনিময় হবে।
আসলে, এই ধরনের সম্পর্কের তৈরি হওয়া সামাজিক প্রতিক্রিয়া, মিডিয়া-আবেগ ও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড—সব মিলিয়ে এটি শুধু এক গসিপ নয়, বরং আধুনিক যুগে রাজনীতিকা ও জন-জীবনের মধ্যে কিভাবে ব্যক্তি ও প্রাইভেসি মিলছে তার একটি উদাহরণ। যেটি আমাদের শেখায়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত জীবন যাতে জনসাধারণের আলোচনায় ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ’ থেকে দেখা হয়।
শেষপর্যায়ে বলা যেতে পারে, জাস্টিন ট্রুডো ও ক্যাটি পেরি-র সম্পর্ক রোমান্টিক সংবাদ হিসেবেই শুরু হয়েছে, কিন্তু এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও একটি আকর্ষণীয় অধ্যায়। সময় দেখাবে, তারা কিভাবে এই সম্পর্ককে আগামীর পথে নিয়ে যাবে, এবং জনসাধারণের নজর-আন্দোলনের মধ্যেও তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কেমন আলোড়ন সৃষ্টি করবে।



