ভারতের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুর পর তাঁর একটি ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তিনি জীবিত অবস্থায় বলেছিলেন, “যদি আমি মারা যাই, তবে আসাম সাতদিনের জন্য বন্ধ থাকবে।” ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার মৃত্যুর পর আসাম সরকার তিন দিনের শোক পালন ঘোষণা করে, যা তার পূর্বাভাসের মতোই বাস্তবায়িত হয় ।
30 September 2025 | Pic: Collected
জুবিন গার্গের শেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি ১২ বছর মুম্বাইয়ে ছিলাম। শহুরে জীবন একঘেয়ে লাগত। অনেকে জিজ্ঞেস করতেন কেন মুম্বাইয়ে থাকি না। একজন রাজার নিজের রাজত্ব ছাড়তে হয় না। মুম্বাইয়ে কোনো রাজা নেই। লতা মঙ্গেশকর বা রাজেশ খান্না মারা গেলে খবর হয়, কিন্তু রাজ্য থেমে থাকে না। কিন্তু আমি যদি আসামে মারা যাই, আসাম সাতদিনের জন্য বন্ধ থাকবে।” তার এই কথাগুলো এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ।
জুবিন গার্গের মৃত্যুর পর আসামে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজ্যজুড়ে শোক পালন করা হয় এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। গুয়াহাটির মহাবহু ব্রহ্মপুত্র রিভার হেরিটেজ সেন্টারে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জুবিন গার্গকে “আসামের কোহিনূর” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আসামকে আরেকটি নেপাল হতে দেওয়া যাবে না।” তার এই মন্তব্য রাজ্যের শান্তি ও অখণ্ডতা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে ।
জুবিন গার্গের পরিবার তার মৃত্যুর ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা আসাম সিআইডিতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং সিআইডির বিশেষ তদন্ত দল (SIT) মামলার তদন্ত শুরু করেছে ।
জুবিন গার্গ শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পী নন, তিনি আসামের সাংস্কৃতিক প্রতীকও ছিলেন। তার গাওয়া “ইয়া আলি”, “জানে কিয়া চাহে মন বাওরা” সহ অসংখ্য গান ভারতীয় সঙ্গীতাঙ্গনে অমর হয়ে থাকবে। তিনি মুম্বাইয়ের বড় বড় সঙ্গীত পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ডাকও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। রোহিত শেঠির এক গানে গাইতে অস্বীকার করেছিলেন জুবিন, সরাসরি না বলে দেন তিনি। সঙ্গীত পরিচালক প্রীতম তখন বলেছিলেন, “ও এমনই, সত্যিই রাজার মতো।”
জুবিন গার্গের শেষ ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর পরও আসামের মাটিতেই থাকার। তিনি গুয়াহাটির প্রিয় জায়গা ‘মহাবহু ব্রহ্মপুত্র রিভার হেরিটেজ সেন্টার’ বা তিল্লা নিয়ে বলেছিলেন, “এটা পৃথিবীর সেরা জায়গাগুলোর একটি। এখানেই থাকতে চাই, এখানেই মরতে চাই। তিল্লাতেই যেন আমার সৎকার হয়, অথবা আমাকে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। আমি একজন সৈনিক।”
জুবিন গার্গের মৃত্যু আসামের মানুষের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী রাজ্যজুড়ে শোক পালনের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তার সাংস্কৃতিক অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। আসাম সরকার তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার সৎকার সম্পন্ন করেছে এবং তার স্মৃতি অমর রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।



