কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাবেক স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ার অবশেষে জনসমক্ষে তার ব্যক্তিগত জীবন এবং ট্রুডোর নতুন প্রেমের বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন। সম্প্রতি তিনি ‘আর্লিন ইজ অ্যালোন’ নামের জনপ্রিয় পডকাস্টে অতিথি হিসেবে যোগ দেন, যেখানে উপস্থাপিকা আর্লিন ডিকিনসন ট্রুডো-কেটি পেরির সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসা এবং সেই পরিস্থিতিতে ৫০ বছর বয়সী সোফি যেভাবে নিজেকে স্থির রেখেছেন, তার প্রশংসা করেন। উত্তরে সোফি বলেন, “দেখুন, আমরা সবাই মানুষ এবং বিভিন্ন ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো ঘটনা আপনাকে যেভাবে ছুঁয়ে যায়—আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন—সেটা আপনার নিজের সিদ্ধান্ত।”

18 Nov 2025 | Pic: Collected
তিনি জানান, বাইরের কোলাহলের চেয়ে তিনি অধিক গুরুত্ব দেন নিজের ভেতরের সঙ্গীতকে, অর্থাৎ নিজের মনের শান্তিকে। উল্লেখ্য, সোফি গ্রেগোয়ার এবং জাস্টিন ট্রুডো ২০২৩ সালের আগস্টে তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন; ২০০৫ সালে তারা বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের তিন সন্তান—জেভিয়ার, এলা-গ্রেস ও হ্যাড্রিয়েন—বর্তমানে তাদের যৌথ অভিভাবকত্বে রয়েছে। এই বিচ্ছেদের পর থেকেই ট্রুডোর ব্যক্তিগত জীবন গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে, বিশেষ করে যখন ট্রুডো ও কেটি পেরিকে গত সেপ্টেম্বরে এক পথচারী আলিঙ্গনরত অবস্থায় ক্যামেরাবন্দী করা হয়। তবে তাদের সম্পর্কের গুঞ্জন দৃঢ়ভাবে সামনে আসে অক্টোবরে, কেটি পেরির জন্মদিন উপলক্ষে প্যারিসের বিখ্যাত ক্রেজি হর্স ক্যাবারেতে তাদের হাত ধরা অবস্থায় মিডিয়ায় প্রকাশের পর।
পডকাস্টে সোফি আরও বলেন, জনসমক্ষে অনেক কিছু উঠে আসা অস্বস্তিকর হওয়াটা স্বাভাবিক, তবে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এসব পরিস্থিতিকে কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। “আমি কীভাবে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাব, এবং কেমন নারী হয়ে উঠতে চাই—এটা আমার নিজের সিদ্ধান্ত”—বলেন সোফি। তবে এর মানে এই নয় যে তিনি নিজের আবেগ দমন করেন; বরং তিনি খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করেন যে, হতাশা, রাগ বা দুঃখ—সব অনুভব করাই একজন মানুষের স্বাভাবিক আচরণ, এবং একজন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তিনি জানেন যে, এ ধরনের আবেগ অনুভব করা মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য জরুরি।
পডকাস্টের শুরুতে উপস্থাপিকা যখন তাকে ‘সিঙ্গেল মম’ হিসেবে উল্লেখ করেন, তখনই সোফি তা ঠিক করে দেন এবং বলেন, “আমি মোটেও একা মা নই। আমার সঙ্গে এমন একজন বাবার অংশীদারিত্ব আছে, যিনি তার সন্তানদের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সময় দেন।” সোফির এই মন্তব্য পুরো আলোচনাটিকে আরও মানবিক করে তোলে, কারণ তিনি স্পষ্ট করে জানান যে বিচ্ছেদ মানে সম্পর্কের সব অংশ ভেঙে যাওয়া নয়; সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব, ভালোবাসা ও সহযোগিতা আগের মতোই অটুট থাকে। সামগ্রিকভাবে, সোফি গ্রেগোয়ারের এই সাক্ষাৎকারটি দেখিয়েছে যে জীবনের কঠিন সময়ে তিনি নিজেকে পরিপক্বতা, আত্মসম্মান ও আত্ম-সচেতনতার সাথে সামলে নিচ্ছেন, এবং বাইরের চাপ বা গুজব তাকে প্রভাবিত করলেও তিনি নিজের মনোসংযোগ ধরে রাখতে শেখেছেন। তার কথায় স্পষ্ট—মানুষ হিসেবে তিনি অনুভব করেন, আঘাত পান, কষ্টও হয়; কিন্তু কোন পথে এগোবেন, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা তিনি নিজের মতো করেই নির্ধারণ করেন।




